সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

নাগরপুরে সারটিয়াগাজী রাস্তা নিজস্ব অর্থায়নে কাদা মুক্ত হল

ডা.এম.এ.মান্নান,স্টাফ রিপোর্টার:
আপডেট সময়: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন

সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে নিজেদের অর্থায়ন ও শ্রমে গ্রামের চলাচলের রাস্তা সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সারটিয়াগাজী গ্রামের বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিনের কাদা-পানির দুর্ভোগ দূর করতে গ্রামবাসীদের এই যৌথ উদ্যোগ পুরো উপজেলায় এক অনন্য সামাজিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জানা যায় , সারটিয়াগাজী গ্রামের ভেতরের এই কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলিত অবস্থায় ছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো পথ কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বয়স্ক ও মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়তেন গ্রামবাসী।
​বারবার আকুতি জানিয়েও কোনো সমাধান না পাওয়ায় অবশেষে নিজেদের উদ্যোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন স্থানীয়রা। কাদা-পানির অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে তরুণসমাজ ও সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে তহবিল গঠন করেন। পরবর্তীতে সংগৃহীত টাকায় প্রয়োজনীয় শ্রমিক ও উপকরণ সংগ্রহ করে সড়কটিতে সফলভাবে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
​এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সামসুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটির কারণে আমাদের সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাদার জন্য স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাও প্রায় অসম্ভব ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও ফল না পেয়ে অবশেষে সবাই মিলে চাঁদা তুলে কাজটি সম্পন্ন করেছি। এতে সাময়িকভাবে চলাচলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
​উদ্যোগটির গুরুত্ব তুলে ধরে মো. জাকিরুল ইসলাম ঝন্টু নামের আরেক বাসিন্দা জানান, আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গ্রামবাসীর চলাচলের কষ্ট লাঘব করা; বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজটি শেষ হওয়ায় পুরো গ্রামে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। সারটিয়াগাজীর মানুষ প্রমাণ করেছে—ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো সংকট নিরসন সম্ভব।
​গ্রামবাসীর এমন স্বতঃস্ফূর্ত সামাজিক উদ্যোগে গোটা নাগরপুর উপজেলাজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। তবে মাটি ভরাটের মাধ্যমে সাময়িক সুরাহা হলেও টেকসই যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন সারটিয়াগাজী গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর