ছুটি শেষ ৯ দিন আগে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত গ্রাম পুলিশ। শ্রীধরপুর ইউনিয়নের সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির অভিযোগ, বেতন-ভাতা উত্তোলনের তথ্য; প্রশাসনকে অবহিত ইউপি সচিব
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের অভয়নগর উপজেলার ৫ নম্বর শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে অনুপস্থিত রয়েছেন। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ছুটিতে থাকার সময়ও তিনি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। সাইফুল ইসলাম উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটির আবেদন করেছিলেন। তবে ৭ সেপ্টেম্বর ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি বলে জানা গেছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে আরও জানা যায়, সাইফুল ইসলাম গত প্রায় দুই মাস ধরে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তার অনুপস্থিতির পুরো সময়ের বিষয়ে কী ধরনের ছুটি বা অনুমোদন ছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে অস্পষ্টতা রয়েছে।
এ বিষয়ে ৫ নম্বর শ্রীধরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব স্বজল বাবু বলেন, “আমার জানামতে, গ্রাম পুলিশ পিআইও স্যারের কাছ থেকে চিকিৎসার কথা বলে ছুটি গ্রহণ করেছিলেন। ওই ছুটির মেয়াদ গত ৭ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। কিন্তু তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি। বিষয়টি ইউএনও স্যার ও পিআইও স্যারকে জানানো হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউপি সচিব বলেন, “বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অজ্ঞন কুন্ডু বলেন, “ছুটি তো আমি দিইনি। গ্রাম পুলিশদের ছুটি ইউএনও স্যার দেন। আমার জানামতে, তিনি অসুস্থতার কারণে ইউএনও স্যারের কাছে ১ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত একটি আবেদন দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার দুটি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাউদ্দিন দীপুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অনুপস্থিতি ও বেতন উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন
ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং একই সময়ে বেতন-ভাতা উত্তোলনের তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিকভাবে যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তিনি কতদিন অনুমোদিত ছুটিতে ছিলেন, ছুটি শেষ হওয়ার পর কোন সময় থেকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য হয়েছেন এবং ওই সময়ের বেতন-ভাতা কোন বিধানের আওতায় উত্তোলন করা হয়েছে, এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে। প্রচলিত চাকরিবিধি ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার বিধানের আওতায় অনুমোদিত ছুটি ছাড়া অনুপস্থিতি কর্তব্যে অবহেলা বা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আর অনুপস্থিত সময়ের বেতন-ভাতা ভুলভাবে উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা পৃথকভাবে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের বিষয় হিসেবে তদন্তের আওতায় আসতে পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই, অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই প্রকৃত বিষয়টি নির্ধারণ করা সম্ভব।