পাবনার আটঘরিয়ায় দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবিতে মানসিক নির্যাতন, হুমকি ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন স্ত্রী মোছা. মেরিনা খাতুন (৩৮) নামে এক নারী।
মামলার আরজিতে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজখবর না নেওয়া এবং তালাকের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের ৭ জুন আতাইকুলা থানার বিলবাড়িয়া গ্রামের আজাহার মন্ডলের ছেলের রেজাউল করিমের সঙ্গে তার বিয়ে হয় আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের জুমাইখিরি গ্রামের নাজিম উদ্দীনের মেয়ে মেরিনা খাতুন(৩৮) এর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে কানিজ ফাতেমা নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
বাদীর দাবি, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তার স্বামী দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন স্রী মেরিনা খাতুনের উপর। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তাকে মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাদীর অভিযোগ, স্বামীকে বিদেশ পাঠানোর জন্য তিনি প্রায় আট-দশ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর গত প্রায় তিন বছর ধরে স্বামী তার ও সন্তানের ভরণ পোষণ ঠিকমতো দেন না এবং খোঁজ খবরও নেন না।
সম্প্রতি প্রায় আড়াই মাস আগে দেশে ফিরলেও তিনি স্ত্রী-সন্তানের কাছে না থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে মামলার বাদীর দাবি।
মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, গত ১০ জুলাই ২০২৬ সকাল ১০টার দিকে বাদীর বাবার বাড়িতে পারিবারিক ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হলে বাদী তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ সময় তাকে ও তার মাকে গালিগালাজ করা এবং যৌতুকের টাকা না দিলে তালাক দিয়ে দেওয়া ও ভরণপোষণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, স্বামীর বাড়িতে গেলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন ও অপমান করেন এবং বাড়িতে প্রবেশ করতে না দিয়ে বাইরে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, স্বামী তাকে কাবিনের টাকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেন।
এদিকে বাদী জানান, তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়েটিও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছে। মেয়ের গলায় টনসিলের সমস্যা হয়ে পেকে যাওয়ার মতো অবস্থা হলেও তার বাবা নিয়মিত খোঁজ খবর বা চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংসারে আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানকে নিয়ে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান।
বাদীর ভাষ্য, স্বামীকে সংসারে ফিরিয়ে এনে স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে তিনি আদালতের কাছে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাদীর ছয় বছর বয়সী মেয়েটিও বাবাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছে। তার ভাষায়, “আমার বাবা যেন আমাদের পরিবারের কাছে আগের মতো ফিরে আসেন।
আমাদের খোঁজ খবর ও দেখা শোনা করুক। আমি যেন সুস্থ হয়ে স্কুলে গিয়ে লেখা পড়া করতে পারি।”
পারিবারিক ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বাদী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় পাবনার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী ২ নম্বর আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আরজিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে মামলায় অভিযুক্ত স্বামীসহ অন্য আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ গুলোর সত্যতা আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
বাদী মেরিনা খাতুন আরও বলেন, আমার স্বামী রেজাউল করিম বিদেশে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে দ্বিতীয় বিয়ে ঢাকায় আছেন।
এখন আমার আর ছোট মেয়ের কোন খোঁজ খবর রাখে না। তিনি বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন, যাতে আমার স্বামী আর বিদেশে যেতে না পারে।