পঞ্চগড়ের আটোয়ারী নেছারীয়া ছালেহীয়া খানকাহ শরীফের আয়োজনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী(সা.) উদযাপন উপলক্ষে ওয়াজ, দোয়া ও ইছালে ছাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাদ আছর হতে অনুষ্ঠিত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ছারছীনা দরবার শরীফের উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট খাদেম আলহাজ্ব সুফি আব্দুল গণি(মা: জি: আ:)। বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ পঞ্চগড় জেলা’র সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা:) এর তাৎপর্য সম্পর্কে প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন ইসলামী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব প্রধান মুফতি,দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা,ঢাকা ও বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্রাহ’র কেন্দ্রিয় মুবাল্লিগ আলহাজ্ব মুফতি ড. ওসমান গণি ছালেহী। বিশেষ আলোচক ছিলেন, পঞ্চগড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের সাবেক খতিব আলহাজ্ব আল্লামা মুফতি আ ন ম. আব্দুল করিম ও ঠাকুরগাঁও জেলা জমইয়াতে হিযবুল্লাহ’র তালিম ও তরিকত সম্পাদক আলহাজ্ব মাওলানা হাফেজ মোঃ মহিউল ইসলাম প্রমুখ। বক্তাগণ বলেন, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ৫৭০ সালের এই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) আরবের মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ(সা:)। দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী(সা:) নামে পরিচিত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সা:) এর জন্মের আগে গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। ওই সময় আরবের মানুষ মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। এ যুগকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ। তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তি পূজা করতো। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতাআলা রাসুলুল্লাহ (সা:) কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সা:) অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেমে অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। ২৫ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নব্যুয়ত লাভ বা মহান রাব্বুল আল আমিনের নৈকট্য লাভ করেন। পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত আছে, মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের (পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর) গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশী। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা:) হিসেবে পালন করে থাকে। ওয়াজ মাহফিলের আলোচনা শেষে দেশ , জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। তবারক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।