কক্সবাজারকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার সাথে কক্সবাজার সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ‘ভারুয়াখালী ইউনিয়ন’কে যুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। এই দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নিকট পেশ করার জন্য এমপি মহোদয়ের সদয় সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাক্ষাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জন্য এমপির সুপারিশ সম্বলিত এই আবেদনটি পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্মারকলিপিতে ভারুয়াখালী ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি তুলে ধরা হয়:
চৌফলদণ্ডী লবণকেন্দ্রের আওতাধীন ভারুয়াখালী মৌজার প্রায় ১৪০০ একর জমিতে প্রতিবছর প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪২ কোটি টাকা। এটি কক্সবাজার সদরের মোট লবণের ২৭ শতাংশ এবং দেশের মোট লবণের ২ শতাংশ।
প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাত: কৃষির পাশাপাশি এ অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৬২ কোটি টাকা এবং চিংড়ি ও কাঁকড়া শিল্পে প্রায় ৮ কোটি টাকার বার্ষিক অর্থনীতি রয়েছে।
ভারুয়াখালীর বার্ষিক অর্থনীতির পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা এবং প্রতিবছর প্রায় ১৮০ কোটি টাকার প্রবাসী রেমিট্যান্স এ অঞ্চলে আসে, যা স্থানীয় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছে।
যোগাযোগ ও ভৌগোলিক অবস্থান: শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার বা ২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত এই জনপদের উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিকেই সেতু-সংযোগ থাকায় যাতায়াত অত্যন্ত সহজ। এছাড়া প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনের আওতায় তেতুয়া অন্তর্ভুক্ত হলে, মাত্র ৩৯২ মিটার উড়ালপথ দ্বারা সরাসরি সংযুক্ত ভারুয়াখালীকে বাদ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষা ও জনবল: প্রায় ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জনপদে রয়েছে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ৭টি মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখান থেকে প্রতিনিয়ত শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তার, আইনজীবী ও ব্যাংকারদের মতো দক্ষ জনবল গড়ে উঠছে।
ভারুয়াখালী ইতিমধ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভূমি উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত দুই বছর ধরে এখানে জমি ক্রয়-বিক্রয়ে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:
এ সময় স্থানীয় জনগণের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বিএনপি নেতা জনাব গোলাম কাদের, অ্যাডভোকেট সেলিম, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক, ছুরত আলম, মাস্টার শেফা উদ্দিন এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আবদুল হামিদসহ এলাকার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, কক্সবাজারের সুষম ও পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের স্বার্থে শিল্পসমৃদ্ধ ভারুয়াখালী ইউনিয়নকে প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করে সরকার এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।