যশোরের অভয়নগরে বিয়েকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। দেনমোহর নির্ধারণ, অল্প সময়ের মধ্যে তালাক এবং পুনরায় বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। মামলার বাদী মোঃ সজিব শিকদার (সবুজ) (২৭), পিতা, মোঃ ইলিয়াজ শিকদার, গ্রাম, দিঘীরপাড়, থানা, অভয়নগর, জেলা, যশোর। তিনি যশোরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৯৬/১০৯/৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, ১. আহসান হাবিব (৫০), পিতা, মোঃ রেজোয়ান আলী ২. লাবনী হাবিব (৪৫), স্বামী, আহসান হাবিব ৩. মারিয়া রহমান (২৪), পিতা, আহসান হাবিব ৪. মোঃ মাহামুদুর রহমান মামুন (৩০), পিতা, মোঃ আব্দুল গফুর ৫. মোঃ আব্দুল গফুর, পিতা, মৃত রিয়াজ উদ্দিন শেখ
(১-৫ নং আসামি: গ্রাম, বরণপাড়া, দামোদর)
৬. খাইরুল আলম (৩৬), পিতা, মৃত আকাম উদ্দিন, গ্রাম, আলকা, থানা, ফুলতলা, জেলা, খুলনা
৭. মাওলানা মোঃ আমির হামজা (৫০), বিবাহ তালাক রেজিস্ট্রার, ৯ নং সিংগাপন্থ ইউনিয়ন পরিষদ, নড়াইল সদর, জেলা, নড়াইল। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে ৩ নম্বর আসামি মারিয়া রহমানের সঙ্গে বাদীর বিয়ে সম্পন্ন করে। তবে বিয়ের মাত্র ৮ দিনের মাথায় পরিকল্পিতভাবে তাকে দিয়ে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে আবার তালাকের নোটিশ প্রদান, সেই নোটিশ প্রত্যাহার এবং পুনরায় বিয়ের নাটক সাজিয়ে বাদীর কাছ থেকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রীসহ প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র, যারা বিয়েকে ব্যবসায় রূপ দিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। দ্বিতীয়বার বিয়ের পরও গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে পুনরায় তালাক দেওয়া হয়। এরপর ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার আগেই ৩ নম্বর আসামি মারিয়া রহমানকে ৪ নম্বর আসামি মোঃ মাহামুদুর রহমান মামুনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।
এতে ধর্মীয় বিধান ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বাদী আসামিদের নিজের বাড়িতে ডেকে এনে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত চান। তবে আসামিরা টাকা দিতে অস্বীকার করে এবং উল্টো বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী তার মামলায় উল্লেখ করেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে বিয়েকে পুঁজি করে অর্থ আত্মসাতের ফাঁদ তৈরি করেছে। তিনি আদালতের কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং বিচার শেষে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআইকে) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। উল্লেখ ওই মামলার ১ নং আসামি মোঃ আহসান হাবিব পিতা রেজওয়ান ইসলাম একজন সরকারি ডাক্তার তিনি বর্তমানে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছে। ফলে ওই ডাক্তার মোঃ আহসান হাবিবের ক্ষমতাবলে ভুক্তভোগীকে আসামিরা হত্যা করাসহ লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। নিরুপায় ভুক্তভোগী সজিব সিকদার খুলনা সিভিল সার্জনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে।