বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ঈশ্বরদীতে সাংবাদিক মোতাহারুল ইসলাম লাবলুর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি আটক  ভাঙ্গুড়ায় মন্ডলমোড়-নৌবাড়ীয়া চৌরাস্তা সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে লাখো মানুষ ঝালকাঠিতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন  গোপালপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত  গঙ্গাচড়ায় নিউজ টুয়েন্টি ফোর-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন রাজাপুরে বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার জনসেবার আড়ালে অর্থ আত্মসাৎ? প্রেমবাগ ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘিরে তোলপাড়

দেনমোহর পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকের আপোষনামা, চুক্তি অমান্যের অভিযোগ

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ন

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার উত্তর মেন্দা ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পরিবারের খোলা তালাকের আপোষ মীমাংসা পত্রকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আপোষনামার শর্ত অনুযায়ী দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের ভিন্নমুখী দাবির কারণে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্ট্যাম্পে সম্পাদিত আপোষ মীমাংসা পত্র অনুযায়ী, প্রথম পক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন (পিতা: মো. মোবারক হোসেন), গ্রাম- মাস্টারপাড়া, ডাকঘর ও থানা- ভাঙ্গুড়া, জেলা- পাবনা এবং দ্বিতীয় পক্ষ মোছা. গোলাপী খাতুন (পিতা: মো. সিরাজুল ইসলাম), গ্রাম- উত্তর মেলা, ডাকঘর ও থানা- ভাঙ্গুড়া, জেলা- পাবনার মধ্যে ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়।

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে এলাকাবাসী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকে দেনমোহরসহ সকল হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আপোষ মীমাংসা সম্পন্ন হয়।

আপোষনামা অনুযায়ী, কাবিনের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টাকা। তবে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ৩ লাখ টাকা পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকে সম্মত হন দ্বিতীয় পক্ষ। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ অর্থ বুঝে পাওয়ার পর দ্বিতীয় পক্ষ ভবিষ্যতে দেনমোহর বা এ-সংক্রান্ত কোনো দেওয়ানি কিংবা ফৌজদারি দাবি করবেন না বলেও আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া আপোষনামায় বলা হয়েছে, কোনো পক্ষ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে অপর পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে আপোষনামার কার্যকারিতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমাকে ওই সময় প্রান নাষের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাই আমি স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছি। আমি এখন আমার স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে চাই।”

অন্যদিকে মোছা. গোলাপী খাতুন বলেন, “আমি আমার স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করবো না। তিনি আমাকে জমির প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেছিলেন। আমি আগের সংসার থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এসেছিলাম, সেগুলোও আমাকে ফেরত দেননি। এছাড়া আমাকে ৫ শতাংশ জমি দেওয়ার কথা বলেছিলেন, সেটিও আজ পর্যন্ত দেননি। তাই আমি তার সঙ্গে আর সংসার করতে রাজি নই।”

সালিশ বৈঠকে উপস্থিত সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন— ইমরান হোসেন (প্রথম পক্ষের ভাই), ভাঙ্গুড়া পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. পান্না হোসেন, পৌর যুবদল নেতা মো. আলামিন এবং মোছা. মিতা খাতুন (দ্বিতীয় পক্ষের খালা)।

বর্তমানে আপোষনামার শর্ত বাস্তবায়ন এবং উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর