যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এক চিকিৎসকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) স্থাপন এবং তার বিদ্যুৎ বিল হাসপাতাল থেকে পরিশোধের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন এবং তদন্তের দাবি।
অভয়নগর, নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন শত শত রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তীব্র গরমে সাধারণ রোগীরা কষ্ট পেলেও নতুন ভবনের ১১১ নম্বর কক্ষে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মাহফুজুর রহমান সবুজ নিজের অর্থে এসি স্থাপন করে আরামদায়ক পরিবেশে রোগী দেখছেন। বিষয়টি জনমনে বৈষম্যের প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন ও প্রশাসনিক অনুমোদন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় তা সরকারি শৃঙ্খলা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি হাসপাতালের কোনো কক্ষে এসি স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং সরকারি বরাদ্দের ভিত্তিতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে স্থায়ী অবকাঠামো বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপন করলে তা প্রশাসনিক তদন্তের আওতায় আসতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহফুজুর রহমান সবুজ বলেন, আমি নিজের অর্থে এসি স্থাপন করেছি। তবে এর বিদ্যুৎ বিল হাসপাতাল বহন করছে। অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি তার স্পষ্ট জানা নেই, তবে মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুল রাজিব বলেন, গরমের কারণে এসি স্থাপনের বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছিল। আমি জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করি। পরে তিনি নিজের অর্থে এসি স্থাপন করেন, তবে বিদ্যুৎ বিল হাসপাতাল থেকেই দেওয়া হচ্ছে। এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি যথাযথ লিখিত অনুমোদন না থাকে, তবে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কীভাবে এই এসি ব্যবহার করা হচ্ছে?
স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতালে জনবল সংকট ও রোগীদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার। তাই সরকারি সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অনুমোদন প্রক্রিয়া যাচাই, সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।