নিবন্ধনহীন চিকিৎসা, অপচিকিৎসায় ভুক্তভোগীর আর্তনাদ, দালালচক্রের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ, তদন্ত দাবি। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাভারপাড়া গ্রামে কবিরাজ পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার নামে ভয়ংকর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার মিন্টু শেখের ছেলে রাব্বি শেখ (২৩) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন বা চিকিৎসা সনদ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। বাঘুটিয়া গ্রামের রোস্তম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, পেটে ব্যথার সমস্যায় লোকমুখে তার নাম শুনে যাই। কিছু ওষুধ দিয়ে আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু ওই ওষুধে কোনো কাজ হয়নি। পরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হই।
এমন অভিযোগ শুধু রোস্তমের নয়, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক ব্যক্তি একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, রাব্বি শেখের কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ বা নিবন্ধন নেই। তার রয়েছে একটি সক্রিয় দালালচক্র, যারা গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে প্রতি সপ্তাহে রবিবার ও বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে শতাধিক রোগীর সমাগম ঘটে চিকিৎসা’র নামে দেওয়া হয় অজ্ঞাত ওষুধ, যার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা প্রদান করা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া, দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা (প্রতারণা) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতারণামূলক সেবা প্রদান অপরাধ ড্রাগস অ্যাক্ট অনুযায়ী অনুমোদনহীন ওষুধ সরবরাহ গুরুতর অপরাধ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা চাইলে এসব ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে গ্রেপ্তার করতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে রাব্বি শেখ এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি নওয়াপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা বিপুল শেখের আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও থেমে নেই তার কর্মকাণ্ড। বরং নতুন কৌশলে সাধু সেজে আবারও সক্রিয় হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কিছু সূত্র দাবি করছে, তার আস্তানায় মানুষের মাঝে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টাও করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা তার বাড়িতে গেলে রাব্বি শেখ পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সচেতন মহলের দাবি, এলাকাবাসী ও সচেতন মহল জরুরি ভিত্তিতে, প্রশাসনিক তদন্ত, ভুয়া চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ, দালালচক্র ভেঙে দেওয়া, কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এর দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই জায়গায় প্রতারণা শুধু আইনগত অপরাধ নয়, এটি মানবিকতারও চরম লঙ্ঘন। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।