শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
সারাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ভাঙ্গুড়ায় কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল গোপালপুরে ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক, নারীর ঘর ভাঙচুর-লুটপাট আটঘরিয়ায় দুর্গাপূজা ঘিরে কড়া  নিরাপত্তা জোরদার, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ব্রিফিং  নাগরপুরে বখাটে ছাত্রর হাতে শিক্ষিকা লাঞ্ছিত  ঈশ্বরদীতে ১২বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা  ঈশ্বরদীর গোয়াল বাথান গ্রামে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালিত, নারীর অবদান ও অধিকার সুরক্ষার আহ্বান এডওয়ার্ড ফিটনেস ক্লাব পাবনার ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন ‎অভয়নগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস চলে নিরাপত্তা প্রহরীর ভরসায়, দ্বায়িত্ব অবহেলা কর্মকর্তার 

মাদকাসক্তি: দুনিয়ার লাঞ্ছনা, আখিরাতের শাস্তি- মুফতি মাওলানা: শামীম আহমেদ

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন

মাদকাসক্তি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এটি শুধু একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য নষ্ট করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং জাতির জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামের দৃষ্টিতে মাদক এমন একটি হারাম বস্তু, যা মানুষের বিবেক, জ্ঞান ও নৈতিকতাকে ধ্বংস করে দেয়। এজন্যই ইসলাম সকল প্রকার নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণকারী শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাক, যাতে তোমরা সফল হতে পার।” (সূরা আল-মায়িদা: ৯০)
মাদকাসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে তার আত্মসম্মান, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক মর্যাদা হারিয়ে ফেলে। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে সে চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সমাজে অস্থিরতা ও অপরাধ বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় মাদকাসক্ত সন্তান বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে ওঠে, সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং পরিবারের সুখ-শান্তি নষ্ট করে দেয়।
মাদক মানুষের ইবাদত-বন্দেগির ওপরও ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে উদাসীন হয়ে পড়ে। তার হৃদয় থেকে আল্লাহভীতি কমে যায় এবং পাপাচারের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। এভাবে মাদক একজন মানুষকে ধীরে ধীরে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যা অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে নেশা সৃষ্টি হয়, তার অল্প পরিমাণও হারাম।” এই হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসলামে মাদকের কোনো বৈধতা নেই। মাদক থেকে দূরে থাকা শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি ঈমান রক্ষারও অপরিহার্য অংশ।
দুনিয়াতে মাদক মানুষের জন্য অপমান, দারিদ্র্য, রোগব্যাধি ও অশান্তি বয়ে আনে। আর আখিরাতে আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে কঠিন জবাবদিহি ও শাস্তির আশঙ্কা রয়েছে। তাই আসুন, আমরা নিজেরা মাদক থেকে দূরে থাকি, আমাদের সন্তানদের মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করি এবং একটি মাদকমুক্ত, সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে এগিয়ে আসি।
মনে রাখতে হবে, ক্ষণিকের নেশা কখনো স্থায়ী সুখ দিতে পারে না; বরং তা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জীবনকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
 “মাদককে না বলুন, আল্লাহর আনুগত্য ও সুস্থ জীবনের পথে চলুন।”


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর