নিহত হাসেম প্রামাণিক (৪০) নটাবাড়িয়া গ্রামের নুর আলী প্রামাণিকের ছেলে। তিনি গত ২৯ মে শুক্রবার সকালে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জুন গভীর রাতে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুবরণ করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুসারে, বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আব্দুল মমিনের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালায়। ভেজাল দুধ তৈরি ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এই হামলা হয় বলে তারা জানান। হামলায় ৬ জন গুরুতর আহত হন এবং তাদের চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসেম প্রামাণিকসহ আহতদের পরিবার প্রথমে চাটমোহর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সরকারদলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে মামলা নেওয়ায় বিলম্ব হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ জানালে তিনি থানাকে মামলা নেওয়ার অনুরোধ করেন, কিন্তু তাতেও তাৎক্ষণিক কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, আব্দুল মমিন ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল দুধ তৈরি ও বিক্রি করে আসছেন। একাধিকবার চাটমোহর থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন তাকে জরিমানা করলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, মমিন থানা-পুলিশসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এলাকার সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক বাহিনীকে অর্থ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন।
হামলার পরও মমিনের লোকজন ভুক্তভোগীদের হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিহতের পরিবার ও ভুক্তভোগীরা মমিনসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।