সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

অভয়নগরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কার্ডের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর ):
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ন

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্কভাতা ও উপবৃত্তির কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে উপজেলার ৩ নম্বর চলশিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ রবিউল ইসলাম রবি’র বিরুদ্ধে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অভয়নগর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ভাতার কার্ড বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অসহায় মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

 

ভুক্তভোগী স্থানীয় এক ব্যক্তি পরামানিক অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের উপবৃত্তির কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে মেম্বার রবি আমার কাছে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি বলেন সমাজসেবা অফিসে টাকা ছাড়া কিছু হয় না। টাকা না দিলে আমার মেয়ের কার্ড হবে না এমনকি কার্ড বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেন। তিনি আরও বলেন, আমি একজন গরীব মানুষ। এত টাকা কোথা থেকে দেবো? সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতে হলে যদি ঘুষ দিতে হয় তাহলে আমরা কোথায় যাবো? স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শুধু পরামানিক নন, এলাকার আরও অনেক অসহায় মানুষের কাছ থেকে একইভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করলে কার্ড বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসবে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোঃ রবিউল ইসলাম রবি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কার্ড বাণিজ্যের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে ৩ নম্বর চলশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান বলেন, এই বিষয়ে আমার কাছে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করে তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভয়নগর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, গরীব ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া ভাতা নিয়ে যদি এমন দুর্নীতি চলতে থাকে, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা কখনোই তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন না। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর