বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবীতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ডা.এম.এ.মান্নান,স্টাফ রিপোর্টার:
আপডেট সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন

২৮ অক্টোবর’০৬ লগি-বইঠা দিয়ে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে এবং ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে টাঙ্গাইল শহর ও সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী । শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা আমীর অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন বাদলের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আমীর আহসান হাবীব মাসুদ।  ২৮ অক্টোবর (বুধবার ) বিকেলে  টাঙ্গাইলের শহীদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।  হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং তাঁদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান সমাবেশের প্রধান অতিথি জেলা আমীর আহসান হাবীব মাসুদ। তিনি ২৮ অক্টোবরের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, কোনো সভ্য সমাজে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের ঘটনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যেকোনো হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অপরাধী যে-ই হোক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় ও অপরাধের প্রমাণ যাচাই করে আইন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
আহসান হাবীব মাসুদ  বলেন, ২৮ অক্টোবরের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি আলোচিত ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। ওই দিনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার, জীবনের নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, হামলা কিংবা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান হতে হবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে। অপরাধের বিচার না হলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই অতীতের হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি।
তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা ক্ষমতার অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া যাবে না। অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রত্যেককে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই একটি স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি আরও হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, যারা নব্য সৈরাচারের পথে হাটছেন তাদেরকেও এদেশের মানুষ মেনে নিবে না। এতে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক,  সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, দেলদুয়ার উপজেলা আমীর আল মুমিন প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর