বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

পাবনায় দুই ভয়ংকর সাম্রাজ্য “দুধে ‘সাদা বিষ’ আর চায়না জালে সর্বনাশ”

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন

দুধে রাসায়নিক, বিলে চায়না দুয়ারী পাবনার চলনবিল অধ্যুষিত তিন উপজেলায় যেন একই সঙ্গে বিস্তার ঘটেছে দুই ভয়ংকর কারবারের। একদিকে ‘দুধের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুরে তৈরি হচ্ছে রাসায়নিক মিশ্রিত নকল দুধ। অন্যদিকে ফরিদপুর উপজেলায় গড়ে উঠেছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল তৈরির শত শত কারখানা। চাটমোহরে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার, ফরিদপুরে প্রায় ৪ হাজার এবং ভাঙ্গুড়ায় ৪ হাজার ৮৯০ জন গো-খামারি রয়েছেন। তিন উপজেলা মিলিয়ে প্রতিদিন উৎপাদিত হয় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ লিটার দুধ। হাজারো খামারি দিন-রাত পরিশ্রম করে এই দুধ উৎপাদন করলেও নকল দুধের কারবারে প্রকৃত খামারিরা যেমন ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি ঝুঁকিতে পড়ছে ভোক্তার স্বাস্থ্য। অন্যদিকে, চায়না দুয়ারী জালের সূক্ষ্ম ফাঁসে মাছের পোনার পাশাপাশি ডিমওয়ালা মাছ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ছে। ফলে ধ্বংস হচ্ছে মাছের প্রজনন ব্যবস্থা। অথচ প্রশাসনের একের পর এক অভিযান ও মোবাইল কোর্টের পরও পুরোপুরি থামছে না দুই অবৈধ কারবার।

দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো বিস্তৃতভাবে উঠে আসে নকল দুধের ভয়ংকর এই চিত্র। এরপর তিন উপজেলার প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। চলতি বছর নকল দুধ ও চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে তিন উপজেলায় পরিচালিত হয়েছে মোট ৫৯টি মোবাইল কোর্ট। কিন্তু এত অভিযানের পরও যেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না দুই ভয়ংকর সাম্রাজ্য।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৪ হাজার ৮৯০ জন গো-খামারি, চাটমোহরে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার এবং ফরিদপুরে প্রায় ৪ হাজার গো-খামারি রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলা মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ লিটার খাঁটি দুধ উৎপাদিত হয়।
আর এই বিশাল দুধের বাজারকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে নকল দুধের কারবার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট বাড়ি, ঘরের বারান্দা, মাচা কিংবা খালি দোকানঘরে গোপনে নকল দুধ তৈরি করা হচ্ছে। পরে এসব দুধ স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে সরবরাহ করা হয়।
শুধু ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুরেই নামে-বেনামে প্রায় দুইশতাধিক চিলিং সেন্টার রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ৯২টি বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির এবং বাকিগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নকল দুধের এক কারবারি অনুসন্ধানকারী সাংবাদিককে জানান, ননী বা ফ্যাট তুলে নেওয়া পাতলা দুধ কিংবা পানির সঙ্গে সয়াবিন তেল, গ্লুকোজ, স্যাকারিন, ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট পাউডার, কস্টিক সোডাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক মেশানো হয়। পরে ব্লেন্ডারে মিশিয়ে কয়েক মিনিটেই তৈরি করা হয় দেখতে খাঁটি দুধের মতো সাদা তরল।
ওই কারবারির দাবি, ঢাকার একটি সিন্ডিকেট কুরিয়ারের মাধ্যমে এসব রাসায়নিক সরবরাহ করে। শূন্য ফ্যাটের ৪০ লিটার দুধে প্রায় ৪৫০ টাকার রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হয় ‘উচ্চ ফ্যাটযুক্ত’ দুধ। পরে তা বিক্রি করা হয় প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকায়। এতে প্রতি ৪০ লিটার দুধে বাড়তি আয় হয় প্রায় ১ হাজার ৭৫০ টাকা।
চিলিং সেন্টারে এসব নকল দুধ কীভাবে ঢোকে এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কারবারি দাবি করেন, প্রতি ৪০ লিটার দুধের জন্য চিলিং সেন্টারে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা না দিলে নকল দুধ নেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২২ জুলাই চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের নাঙ্গলমোড়া গ্রামে প্রাণ কোম্পানির একটি হাব সেন্টারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে কয়েক হাজার লিটার নকল দুধ, তেল, বিভিন্ন রাসায়নিক ও রাসায়নিক রাখার ড্রাম জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থলে তিন কর্মকর্তাকে ছয় মাস করে কারাদন্ড দেওয়া হয়।
ভাঙ্গুড়ার বিভিন্ন এলাকাতেও নকল দুধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালানো হয়। ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মেন্দা খালপাড় এলাকায় পুলিশ একটি নকল দুধ তৈরির কারখানা শনাক্ত করে। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হলেও কারখানার মালিক পালিয়ে যান। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। অভিযুক্তরা আদালতে হাজির হলে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।

ভাঙ্গুড়ার খামারি আব্দুল খালেক ও রহিম উদ্দিন বলেন, ‘‘আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করে গরু পালন করে খাঁটি দুধ উৎপাদন করি। অথচ নকল দুধ কম দামে বাজারে ঢুকে পড়ায় আমাদের দুধের ন্যায্য দাম পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেক খামার বন্ধ করে দিতে হবে।’’
চাটমোহর উপজেলা দুধ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, নকল দুধের কারণে অনেক সৎ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। চিলিং সেন্টারগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান নেই। প্রশাসনকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, তা না হলে দুধশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

অনুসন্ধানের সময় জগাতলা আকিজ চিলিং সেন্টারের কর্মকর্তার কাছে নকল দুধ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। রাঙ্গালিয়া প্রাণ ডেইরির কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। অন্যদিকে জগাতলা আড়ং ডেইরির চিলিং সেন্টারের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি চিলিং সেন্টার ও ল্যাবে তালা ঝুলিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম বলেন, রাসায়নিক মিশ্রিত নকল দুধ দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে মানুষের স্বাস্থ্যে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। জনগণকে সতর্ক করার পাশাপাশি প্রশাসনকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ডিটারজেন্ট, কস্টিক সোডা, ইউরিয়াসহ শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক খাদ্যে মেশানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসব উপাদান মানুষের শরীরে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। নকল দুধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

“চায়না দুয়ারীর কারখানার সাম্রাজ্য”
দুধের বাজারে যখন নকলের বিস্তার, তখন চলনবিলের জলজ সম্পদে আরেক ভয়ংকর বিপদ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল। আর এই জালের অন্যতম বড় উৎপাদনকেন্দ্র হয়ে উঠেছে ফরিদপুর উপজেলা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে চায়না দুয়ারী জাল তৈরির অসংখ্য কারখানা। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে ফরিদপুরে প্রায় ২৫০টি বড় আকৃতির চায়না দুয়ারী জাল তৈরির কারখানার তথ্য পাওয়া গেছে। এর বাইরে বিভিন্ন বাড়িতেও ছোট পরিসরে এ জাল তৈরি হচ্ছে।
ফরিদপুরের ডেমড়া, রতনপুর, আগপুঙ্গলী ও গোপালনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব কারখানা গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। কোথাও বড় পরিসরে, আবার কোথাও বসতবাড়ির আঙিনায় তৈরি হচ্ছে নিষিদ্ধ এই জাল।
কারখানাগুলোতে দিন-রাত জাল তৈরির পর ভোর থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে ফরিদপুরে তৈরি চায়না দুয়ারী শুধু চলনবিল নয়, দেশের বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলে ছড়িয়ে পড়ছে।

চায়না দুয়ারী জালের ভয়াবহতা এর সূক্ষ্ম ফাঁসে। বড় মাছের পাশাপাশি এতে আটকা পড়ে ছোট পোনা, ডিমওয়ালা মাছ এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণী।
মৎস্যসংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে নির্বিচারে মাছ ধরা হলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন কমে যেতে পারে। ব্যাঙ, কচ্ছপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও এ জালে আটকা পড়ে মারা যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জলজ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য। একটি চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় ছোট-বড় মাছ আলাদা করার সুযোগ থাকে না। ফলে বাজারে বিক্রির অযোগ্য অসংখ্য পোনা মাছও ধ্বংস হচ্ছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে দেশের মৎস্যসম্পদের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এ দিকে ফরিদপুর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ বিভিন্ন সময়ে চায়না দুয়ারী জালের কারখানায় অভিযান চালিয়েছে। জাল জব্দ, কারখানা বন্ধ ও জরিমানার ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি কারখানায় অভিযান শেষ হওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই অন্য জায়গায় আবার উৎপাদন শুরু হয়। ফলে শুধু জলাশয় থেকে জাল জব্দ করে ধ্বংস করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে তাদের নজরদারি ও অভিযান চলমান রয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে বিপুলসংখ্যক কারখানার কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ছে।

সচেতন মহলের মতে, চায়না দুয়ারীর বিরুদ্ধে শুধু জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালে সমস্যার সমাধান হবে না। জালের উৎপাদন, মজুত, পরিবহন ও বিক্রির প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ফরিদপুরের কারখানাগুলোর তালিকা তৈরি করে উৎপাদন বন্ধ, জাল তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা জরুরি। কারণ, জলাশয় থেকে একটি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা সাময়িক সমাধান। উৎপাদনকেন্দ্র চালু থাকলে নতুন জাল আবার বাজারে আসবে।

এ সকল বিষয়ে কথা হয় চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী, ভাঙ্গড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান ও ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইমামা বানিনের সাথে। তারা জানান, চলতি বছরে চাটমোহরে নকল দুধের বিরুদ্ধে ৫টি এবং চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে ৮টি, ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধের বিরুদ্ধে ৯টি এবং চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে ১০টি ও ফরিদপুরে নকল দুধ তৈরির বিরুদ্ধে ১৪টি এবং নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে ১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ, চলতি বছর তিন উপজেলায় নকল দুধের বিরুদ্ধে ২৮টি এবং নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে ৩১টি, মোট ৫৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

তারপরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না নকল দুধ ও চায়না দুয়ারী জালের কারবার। ফলে প্রশ্ন উঠেছে এত অভিযান ও শাস্তির পরও কারা বারবার এসব অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে এবং কোথায় রয়েছে নজরদারির ঘাটতি?

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. শহিদুজ্জামান তরুণ বলেন, নকল দুধ ও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল চক্রের মূল শক্তি তাদের পেছনে থাকা প্রভাবশালীরা। নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি জড়িতদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) পাবনা জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ বলেন, ‘‘নকল দুধ ও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল দুটিই জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। শুধু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা বা কারাদন্ড দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নকল দুধ তৈরির কাঁচামাল কোথা থেকে আসছে, কারা সরবরাহ করছে এবং কোন পর্যায়ে তা বাজারে প্রবেশ করছে সেই মূল চক্রকে শনাক্ত করতে হবে। একইভাবে চায়না দুয়ারী জালের উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে হবে। প্রশাসন, পুলিশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত নজরদারি বাড়ানো ছাড়া এ দুই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন।’’

ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুরের দুধশিল্প হাজারো পরিবারের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। প্রতিদিন সাড়ে ৪ লাখ লিটার দুধ উৎপাদনকারী এ অঞ্চলে নকল দুধের বিস্তার অব্যাহত থাকলে প্রকৃত খামারিরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন, ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্থানীয় অর্থনীতি এবং ঝুঁকিতে পড়বে ভোক্তার স্বাস্থ্য।
অন্যদিকে ফরিদপুরে চায়না দুয়ারীর শত শত কারখানা চালু থাকলে শুধু চলনবিল নয়, দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়বে নিষিদ্ধ এই জাল। ধ্বংস হবে পোনা ও প্রজননক্ষম মাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য।
তাই বিচ্ছিন্ন অভিযান নয় নকল দুধের কারখানা থেকে চিলিং সেন্টার এবং চায়না দুয়ারীর কারখানা থেকে বাজার পর্যন্ত পুরো চক্রকে নজরদারির আওতায় এনে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। নইলে একদিকে ‘দুধের রাজধানী’ পাবনার খাঁটি দুধের সুনাম, অন্যদিকে চলনবিলের মৎস্যসম্পদ দুটিই ভয়ংকর দুই সাম্রাজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর