পাবনার ফরিদপুরে বড়াল নদীর তীর থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশু সাকিবের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর তদন্তে জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত সাকিবের চালিত ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটি ও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামের মাজাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাজাট কবরস্থানের মাঝামাঝি, জব্বার মোল্লার জমি সংলগ্ন বড়াল নদীর তীরে পানিতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফরিদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি পানি থেকে উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
পুলিশের প্রাথমিক সুরতহালে নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাত ও খুলি ভাঙার চিহ্ন এবং নাক-মুখে রক্তের দাগ পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
নিহত সাকিবের বাবা মো. হারিজ উদ্দিন (৩৬) অভিযোগ করেন, অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তার ছেলেকে হত্যা করে মরদেহ নদীর তীরে ফেলে রেখে তার চালিত অটোভ্যানটি নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর থানায় মামলা নম্বর-০৮, ধারা ৩০২/২০১/৩৯৪/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইমন (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনিয়ে নেওয়া ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম মাসুদ বলেন গ্রেফতারকৃত আসামিকে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে ওসি মনজুরুল আলম মাসুদ ।