পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বেরুয়ান মৌজায় কট নেওয়া পুকুর জোরপূর্বক দখলচেষ্টা এবং লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে শরিফুল ইসলাম ফরিদ (৩৪) গংদের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ খাইরুজ্জামান সুজন বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেরুয়ান গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে খাইরুজ্জামান সুজন (৩৬) ২০২৪ সালে একই এলাকার মৃত হাফিজুর রহমান জীবিত থাকা অবস্থায় তার কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দুটি পুকুর কট মূলে মাছ চাষের জন্য গ্রহণ করেন।
চুক্তির পর থেকেই তিনি সেখানে নিয়মিত মাছ চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু পুকুর মালিক হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর পর তার ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম ফরিদ এবং তার সহযোগীরা জোরপূর্বক পুকুরটি দখলের চেষ্টা শুরু করেন।
গত ০৪ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ ঘটিকায় বিবাদী মোঃ শরিফুল ইসলাম ফরিদ, দিলশাদ হোসেন (৪৫), রোকেয়া সুলতানা (৩২) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুকুরপাড়ে প্রবেশ করে। তারা পুকুরপাড়ে থাকা আনুমানিক ১০০টি ফল ধরন্ত কলাগাছ এবং অন্যান্য আরও ৫০টি গাছ কেটে ফেলে।
এতে বাদীর প্রায় এক লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়। উল্লেখ্য ইতিপূর্বেও খায়রুজ্জামান সুজনের পুকুর থেকে মাছ এবং খামার থেকে মুরগি চুরির মত ঘটনা ঘটিয়েছে শরিফুল ইসলাম ফরিদ।
ঘটনার খবর পেয়ে সুজন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে বিবাদীরা ধারালো হাসুয়া ও কাঁচি নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে। এ সময় সুজনের চিৎকারে তার মা শিউলী খানম (৫৪) ও মোঃ সুমন ইসলাম (২৬) সহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী খাইরুজ্জামান সুজন বলেন, “বিবাদীরা আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও জানমালের নিরাপত্তা দাবি করছি।”
এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।