নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নূরবাগ হয়ে আদর্শনগর, শহীদনগর এবং মাতুয়াইল সংলগ্ন রাস্তাটি যেন ১২ মাসই পানির নিচে তলিয়ে থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগ পোহালেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।
মুমূর্ষু রোগী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে।রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া দায় হয়ে পড়েছে। অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ রিকশা-ভ্যান চলাচলও এখন অসম্ভব। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীদের কষ্টের সীমা নেই। অনেক সময় জলাবদ্ধতার তীব্রতা এত বেড়ে যায় যে, রাস্তায় নৌকাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া নিয়মিত যানবাহন সংকটের কারণে যাতায়াত ভাড়া গুনতে হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি। চালকরাও নিরুপায় হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় গাড়ি চালাতে অস্বীকৃতি জানান।
জানা গেছে, গত কিছুদিন আগে এলাকাবাসী এই সমস্যা সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায়, নারায়ণগঞ্জ এলজিইডি থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরে (আগারগাঁও) ৩ কোটি ৮৮ লক্ষ ১১ হাজার ১৯০ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে পাকা ড্রেন ও স্লাব নির্মাণ করা হবে। তবে প্রকল্পটি কবে নাগাদ আলোর মুখ দেখবে বা কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানেন না ভুক্তভোগীরা।
শহীদনগর এলাকার সমাজ উন্নয়ন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আজম খান বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে এলাকাবাসী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ড্রেন ও স্লাব নির্মাণের বাজেট পাস হয়েছে শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এই দুর্ভোগ থেকে জনগণ মুক্তি পাবে।”
কুতুবপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ বাবুল মিয়া বলেন, “প্রকল্পের বাজেট পাস হয়েছে, অচিরেই কাজ শুরু হবে। তবে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানাব, ড্রেন ও স্লাব নির্মাণের পাশাপাশি রাস্তাটি যেন দ্রুত পাকা ঢালাই করা হয়। এটি বাস্তবায়ন হলে জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।”
এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, “ড্রেন ও স্লাব নির্মাণের প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ নিরসনে আমরা অতি দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছি।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।