শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
ষড়যন্ত্রের জালে বন্দি নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির কাণ্ডারি, ২৮ মামলার যোদ্ধা আজ উপেক্ষিত ভাঙ্গুড়ায় কৃষকের ধান সংগ্রহ শেষ, সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি আটোয়ারীতে আগমনী কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী সমাজকল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা, গাছের চারা বিতরণ ও অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন লামায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চাটমোহরে তিন মাদক সেবীর কারাদণ্ড পাবনায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর আয়োজনে অর্থনৈতিক শুমারি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত আটোয়ারীতে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা পাবনার জিনিয়াস প্রি-ক্যাডেট স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফল উৎসব

ষড়যন্ত্রের জালে বন্দি নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির কাণ্ডারি, ২৮ মামলার যোদ্ধা আজ উপেক্ষিত

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ন

রাজনীতির মঞ্চে যখন বসন্তের কোকিলদের আনাগোনা বাড়ে, তখন কি রাজপথের পরীক্ষিত যোদ্ধাদেরই হারিয়ে যেতে হয় আড়ালে? এমনই এক প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির রাজনীতিতে।

দীর্ঘ ১৭ বছরের কঠিন রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সময়ে, যখন অনেকেই আত্মগোপনে ছিলেন, তখন একাই দলের হাল ধরেছিলেন এক তরুণ নেতা, মোঃ আসাদুজ্জামান জনি। তৃণমূলের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন অ-ভয় জনি নামে, সংগ্রামী, সাহসী ও আপসহীন এক প্রতীক হিসেবে।

রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে খুব অল্প বয়সেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন জনি। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে দলীয় শীর্ষ নেতারা তাঁকে নওয়াপাড়া পৌর ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব দেন। এরপর থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর উপস্থিতি হয়ে ওঠে দৃশ্যমান,

নওয়াপাড়া থেকে যশোর, খুলনা হয়ে ঢাকার নয়াপল্টন, প্রতিটি কর্মসূচিতে ছিলেন সামনের সারিতে। ২৮টি মামলা, গুমের চেষ্টা, গুলিবর্ষণ, তবুও থামেননি জনির রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত দিক তাঁর ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় ২৮টি গায়েবি মামলা

বারবার কারাবরণ ও রিমান্ডে নির্যাতন পরিবারের বাইরে পালিয়ে বেড়ানো, জঙ্গল, মাঠ, ধানক্ষেতে রাতযাপন নিজ বাড়িতে ঢুকে সরাসরি গুলি চালানোর ঘটনা র‍্যাবের মাধ্যমে ক্রসফায়ারের পরিকল্পনা ও গুমের চেষ্টা সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা, খুলনার একটি র‍্যাব দল তাঁকে তুলে নিয়ে ভবদহ পুলিশ ফাঁড়িতে দুই দিন আটকে রাখে। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তৃণমূলের ভোটে সাংগঠনিক সম্পাদক এত নির্যাতনের পরও দল ছাড়েননি জনি। বরং তৃণমূলকে আগলে রেখেছেন সবসময়। এর স্বীকৃতি হিসেবে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। অভ্যুত্থানের পরই শুরু অদৃশ্য খেলা? ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর যখন ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের কথা, তখনই শুরু হয় বিতর্ক।

অভিযোগ উঠেছে, জনির বিরুদ্ধে ১৬টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। তবে প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে রয়েছে প্রমাণ ও নথিপত্র তবুও তাঁর পদ স্থগিত করা হয়। সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে জনি বহিষ্কৃত নন তিনি জীবিত ও সক্রিয় পদ কেবল স্থগিত তবুও হঠাৎ করেই অন্য একজনকে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়! তৃণমূলের ক্ষোভ: এটা স্পষ্ট ষড়যন্ত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, জেলা বিএনপির কোনো লিখিত নির্দেশনা নেই। অথচ বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে! এটা জনিকে সরানোর পরিকল্পনা, কারণ তাঁর জনপ্রিয়তাকে সবাই ভয় পায়। জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, আমরা আলোচনা করেছিলাম, কিন্তু পরে কীভাবে সিদ্ধান্ত হলো, আমি জানি না।

এই বক্তব্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঘটনার পেছনে রয়েছে রহস্যময় প্রভাব। জনির কান্নাভেজা প্রতিক্রিয়া

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জনি বলেন, আমি মারা যাইনি, বহিষ্কারও হইনি। তারপরও আমাকে সরিয়ে দেওয়া হলো! জীবনের সবকিছু দিয়েছি দলের জন্য, এটাই কি তার প্রতিদান? তৃণমূলের দাবি: বিচার চাই

নওয়াপাড়ার সাধারণ নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, জনি দলের দুঃসময়ের প্রতীক তাঁর অবমূল্যায়ন দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এটি পরিকল্পিত মাইনাস ষড়যন্ত্র

এখন দেখার বিষয় দলের হাইকমান্ড কি, সত্য উদঘাটনে তদন্ত করবে? ত্যাগী নেতার প্রতি সুবিচার করবে? নাকি ষড়যন্ত্রের বলি হবেন অ-ভয় জনি?

চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় নওয়াপাড়ার হাজারো নেতা-কর্মী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর