বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কক্সবাজারের ‘সূর্য সন্তান’ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামফলক আড়াল করল কারা? চৌফলদণ্ডী সেতুতে নজিরবিহীন প্রতিহিংসার তদন্ত দাবি! ঈশ্বরদীতে পুলিশ হত্যা মামলার আসামি আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক নাটিকা প্রদর্শন গোপালপুরসহ সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন রাতে নিখোঁজ হয়ে সকালে মিলল নিয়ামুলের মরদেহ মেঠোপথে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের শত শত পতাকা, রাণীনগরের আমগ্রামে ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজ ঝালকাঠিতে‌ মাদকাসক্তিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে করনীয় কর্মশালা অভয়নগরে নৃশংসতা: একাধিক মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

কক্সবাজারের ‘সূর্য সন্তান’ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামফলক আড়াল করল কারা? চৌফলদণ্ডী সেতুতে নজিরবিহীন প্রতিহিংসার তদন্ত দাবি!

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
module: a; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Auto; cct_value: 5813; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 88.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

কক্সবাজারের মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা, এই জনপদের ‘সূর্য সন্তান’ এবং বর্তমান সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম সংবলিত একটি ঐতিহাসিক উন্নয়ন স্মারক বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলা ও অবমাননার শিকার হচ্ছে। কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল-চৌফলদণ্ডী-ঈদগাঁও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ চৌফলদণ্ডী সেতুর প্রবেশমুখে স্থাপন করা এই ভিত্তিপ্রস্তরটি বর্তমানে সুপরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক দোকানপাটের পেছনে আড়াল করে ফেলা হয়েছে। জেলার একজন কৃতি সন্তানের রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন স্মারকের এমন অবমাননায় স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, চৌফলদণ্ডী খালের ওপর নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুর প্রবেশমুখে ২০০৪ সালের মার্বেল পাথরের তৈরি ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ফলকটি অবস্থিত। কিন্তু বর্তমানে ফলকটির ঠিক সামনে ও দুই পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক স্থায়ী বাণিজ্যিক দোকানপাট। এই দোকানগুলোর পেছনের অন্ধকার ও নোংরা অংশে, ময়লা-আবর্জনার মধ্যে ঢাকা পড়ে রয়েছে ফলকটি। বাইরে থেকে কোনো পথচারী বা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝার উপায় নেই যে, সেখানে একটি ঐতিহাসিক নামফলক রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৪ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের সফল যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তৎকালীন প্রভাবশালী নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর হাত ধরেই এই অবহেলিত উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের চৌফলদণ্ডী সেতুর কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক নানা টানাপোড়েন ও স্থবিরতা কাটিয়ে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এই সেতু চালু হওয়ার পর খুরুশকুল, চৌফলদণ্ডী, পোকখালী ও ঈদগাঁও অঞ্চলের সাথে জেলা শহরের দূরত্ব প্রায় ১৫ থেকে ২২ কিলোমিটার কমে আসে এবং এই অঞ্চলের লবণ, চিংড়ি ও শুঁটকি শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে।
আইনজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে এভাবে দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামফলক আড়াল করা ‘মহাসড়ক আইন, ২০২১’ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“চৌফলদণ্ডী সেতুর মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামফলক আড়াল করে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ব্যক্তিগতভাবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। স্থানীয় পর্যায়ে এর আগে কোনো প্রতিবাদ না থাকায় এতদিন বিষয়টি নজরে আসেনি। তবে এখন যেহেতু বিষয়টি সামনে এসেছে, তাই এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নামফলকটি অবমুক্ত করতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয় ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, “সরকারি জায়গা এভাবে দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে জায়গাটি উন্মুক্ত করা হলে, সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের চমৎকার সুবিধা হবে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাবে। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামফলক আড়াল করে এভাবে নোংরা পরিবেশে রাখাটা অত্যন্ত নিন্দনীয় বিষয়।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত স্বৈরাচারী আনমলের কিছু সুবিধাভোগী মহলের প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগিতায় এবং স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির লোভে সেতুর সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কক্সবাজারের এই কৃতি সন্তানের উন্নয়নমূলক কাজের ইতিহাস ও অবদানকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি থেকে চিরতরে মুছে দেওয়া। একটি রাষ্ট্রীয় স্মারককে এভাবে মুদি দোকানের পেছনে বন্দি করে রাখাকে চরম ধৃষ্টতা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রবীণ সমাজ সেবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যিনি এই জনপদের মানুষের ভাগ্যবদল করলেন, আজ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—তাঁরই নামফলক এভাবে ময়লা আর দোকানের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। উন্নয়ন ও ইতিহাস কখনো কোনো নির্দিষ্ট দলের হয় না, তা পুরো জনগণের। রাজনৈতিক হিংসা থেকে এই অবমাননা আমরা মেনে নিতে পারছি না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উন্নয়ন স্মারক এভাবে আড়াল করার নেপথ্যে কোন সিন্ডিকেট বা কুশীলবেরা জড়িত ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচিত হওয়া জরুরি। অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করার এবং ঐতিহাসিক নামফলকটিকে তার প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিয়ে সবার সামনে উন্মুক্ত করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এই অঞ্চলের সর্বস্তরের জনগণ।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাথে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নিয়ে সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর