যুক্তরাস্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। বিশ্বমঞ্চের এই মহোৎসবের আঁচ এসে লেগেছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার আমগ্রাম গ্রামেও। দূর প্রবাসে বল গড়ানোর সাথে সাথেই আমগ্রামের ফুটবল সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস আর টানটান উত্তেজনা এখন পুরো উপজেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
রাণীনগর-আবাদপুকুর মহাসড়ক থেকে আমগ্রামের ভেতরের দিকে চলে যাওয়া মেঠোপথের প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার দুপাশের সারি সারি খেজুর গাছে উড়ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের শত শত পতাকা। পুরো এলাকা যেন এখন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের পতাকার এক রাজত্বে পরিণত হয়েছে। আমগ্রামের সর্বস্তরের যুবসমাজের নিজস্ব অর্থায়নে করা ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা।
মাঠের লড়াই শুরুর সাথে সাথেই মাঠের বাইরের বাগযুদ্ধে মেতে উঠেছেন দুই দলের সমর্থকেরা। ইতিমধ্যেই রুবেল, আমিনুল, এনামুল, ইমদাদুল, মানিক, সোহানুর, রাফিউল, মোস্তাকিম ও রিফাতসহ আরও অনেকেই একঝাঁক ব্রাজিল সমর্থক নিজেদের ছবি সংবলিত একটি বিশাল ডিজিটাল ব্যানার টাঙিয়েছেন। আমগ্রামের ব্রাজিল সমর্থক মো. মানিক হোসেন দৃঢ়তার সাথে বলেন, “সাম্বা নৃত্যের ছন্দে এবার মাঠ কাঁপাবে আমাদের প্রিয় দল। সব রেকর্ড ভেঙে ট্রফি এবার ব্রাজিলের ঘরেই উঠবে।”
অন্যদিকে ব্রাজিলের এই দাবিকে উড়িয়ে দিতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন আর্জেন্টিনার একঝাঁক সমর্থক। জিয়াদ হাসান, আবু মোহাম্মদ, এনামুল, সুমন, রনি, রাজ্জাক ও শাহীন আলমসহ অনেকেই দলেরপক্ষে আমগ্রামের আর্জেন্টিনার সমর্থক জিহাদ হাসান পাল্টা দাবি করে জানান, “দলীয় রসায়নে আলবিসেলেস্তেরা এখন অপরাজেয়। মানিক ভাইয়েরা ব্যানার টানিয়ে যতই ট্রফির স্বপ্ন দেখুক, শেষ হাসিটা আর্জেন্টিনাই হাসবে। তবে আমাদের এই আনন্দ-উল্লাস সবাইকে সাথে নিয়েই করবো।”
খেলা শুরুর সাথে সাথেই আমগ্রামের এই মেঠোপথ এখন ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই পতাকার সাম্রাজ্য দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। কাপ কার ঘরে যাবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে যুবসমাজের নিজ অর্থায়নে তৈরি এই উৎসবমুখর পরিবেশ পুরো রাণীনগরে এক দারুণ সাড়া ফেলেছে।