পাবনার আটঘরিয়ায় পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য কৃষক পর্যায়ে (GAP) উত্তম কৃষি চর্চা অনুসারণকৃত প্রদর্শনী প্লট মিয়াপাড়া পার্টনার ফিল্ড স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার(১৪জুন) সকালে মিয়াপাড়া পার্টনার ফিল্ড স্কুল প্রাঙ্গণে উত্তম কৃষি চর্চা অনুসারণকৃত প্রদর্শনী প্লট অনুষ্ঠিত
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চল বগুড়ার কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ।
বিষয়ে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক খামার বাড়ি পাবনার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর প্রামানিক, পার্টনার প্রকল্পের বগুড়া অঞ্চলের মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ, সভাপতিত্ব করেন আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদাা মোতমাইন্না, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুল হাই, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার শাহাবুদ্দিন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, জাহিদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “বর্তমান বিশ্বে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়, উৎপাদিত ফসল কতটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তম কৃষি চর্চা বা GAP (Good Agricultural Practices) অনুসরণের মাধ্যমে আমরা এমন ফসল উৎপাদন করতে চাই যা রাসায়নিক ও জীবাণুমুক্ত এবং মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।”
তিনি আরও বলেন, যত্রতত্র রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। GAP-এর নিয়ম মেনে সুষম সার এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথি কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর প্রামানিক বলেন, সরকারের ‘পার্টনার’ (PARTNER) প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও লাভজনক করা। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সরাসরি প্রশিক্ষিত করে তোলার এই উদ্যোগ আটঘরিয়ায় কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
আপনারা শুধু ফসলের উৎপাদক নন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের পাহারাদার। মাঠ থেকে ভোক্তার পাত পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সততা ও সঠিক পদ্ধতি বজায় রাখুন।
তাই নিজের জমিতে প্রয়োগ করুন এবং আটঘরিয়াকে নিরাপদ কৃষির মডেল হিসেবে গড়ে তুলুন।” তিনি সকল কৃষককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, “আপনারা মুখে শোনার চেয়ে নিজের চোখে দেখলে এবং নিজে হাতে করলে বিষয়টি সারাজীবন মনে থাকবে। উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) কোনো কঠিন বিষয় নয়, এটি হলো নিয়ম মেনে সঠিক উপায়ে চাষাবাদ করা।
মাটিতে কখন, কতটুকু সার দেবেন, পোকা দমনে কখন বিষমুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করবেন এবং কীটনাশক দেওয়ার কতদিন পর ফসল তুলবেন, কিভাব কিউআর কোড তৈরি করে ব্যবহার করবেন এগুলো আপনাদের আজ আমি নিজে হাতে করে দেখালাম।
আপনারা যদি এই নিয়মগুলো মাঠে সঠিকভাবে মানেন, তবেই আপনাদের ফসল ‘নিরাপদ ফসল’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আপনারা GAP সার্টিফিকেট পাবেন।