এস্কেভেটরের আঘাতে পঙ্গু আক্তার, দুই বছরে হারালেন পরিবার ও জীবিকা। দল ক্ষমতায় এলেও সুদিন ফেরেনি, এমনই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি যশোরের অভয়নগরের এক নিষ্পেষিত বিএনপি কর্মী ও দিনমজুর আক্তার মোড়ল (৩০)। প্রভাবশালীদের চক্রান্তে এস্কেভেটরের আঘাতে পঙ্গু হয়ে আজ তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসার অভাব, পরিবার ভাঙন আর জীবিকার সংকটে দিশেহারা তার জীবন।
জানা গেছে, উপজেলার ভাঙ্গাগেটস্থ সাবিছা কোম্পানির কয়লার ড্যাম্পে দৈনিক মজুর হিসেবে কাজ করতেন আক্তার মোড়ল। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল পূর্ব শত্রুতার জেরে নওয়াপাড়া গ্রামের ইদ্রিস সরদার (৬২) এস্কেভেটর চালককে প্ররোচিত করে আক্তারের ওপর হামলা চালান। ভারী যন্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর প্রাণে বাঁচলেও চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান আক্তার। হারান নিজের দুই পা। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে উল্টো তাকে হয়রানি করেছে। দুই বছরের অসুস্থতা আর দারিদ্র্যের বোঝা সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী দুই সন্তানসহ তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। বর্তমানে সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন আক্তার। হুইলচেয়ারের সাহায্যে ডাব, মৌসুমি ফল ও পাপড় ভাজা বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে পিঠে গুরুতর ক্ষতের কারণে সেই সামান্য আয়ের পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে আক্তারের পিতা নিজাম মোড়ল বলেন, ইদ্রিস সরদার পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলের জীবন ধ্বংস করেছে। শুধু তাই নয়, আমাদের পুরো পরিবারটিকেই পথে বসিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।
তিনি আরও জানান, নওয়াপাড়া বেঙ্গল সার কারখানায় সর্দার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সেখান থেকেও ইদ্রিস সরদার তাকে সরিয়ে দিয়ে নিজে সেই পদ দখল করেছেন বলে অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত ইদ্রিস সরদার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা (তৎকালীন) এসআই আফজাল বলেন, আমি ইতোমধ্যে বদলি হয়েছি। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকায় একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্ত চলমান রয়েছে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ভুক্তভোগী আক্তার মোড়লের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।