শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন

নওয়াপাড়ায় ট্রাকভর্তি ভূষিমালে গায়েব ৪-৫ টন! চোরচক্রের সংগঠিত লুটপাটে তোলপাড়

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন

চালান ঠিক, স্কেল স্লিপ ঠিক, তবুও পথে উধাও মালামাল; ভিডিও বার্তায় ফাঁস চক্রের ভেতরের চিত্র, জড়িত একাধিক ব্যক্তি। যশোরের অভয়নগরের শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র নওয়াপাড়ায় ট্রাকভর্তি ভূষিমাল পরিবহনের আড়ালে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ভয়ংকর লুটপাটের ঘটনা ফাঁস হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে প্রতি ট্রাক থেকে ৪ থেকে ৫ টন পর্যন্ত মালামাল গোপনে সরিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে আসছিল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, দেশের স্বনামধন্য আর আর পি কোম্পানির ভূষিমাল প্রতিদিন নওয়াপাড়া থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকে পরিবহন করা হয়। এ পরিবহনের দায়িত্বে রয়েছে নওয়াপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন ফারাজী ট্রেডিং, যার মালিক রাজু ফারাজী। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চক্রটির অভিনব কৌশল, একটি ট্রাকে যেখানে ২৫ টন ভূষিমাল থাকার কথা, সেখানে চালান ও স্কেল স্লিপ ঠিক রাখা হতো। কিন্তু বাস্তবে গোপনে ৪–৫ টন মালামাল আগেই নামিয়ে ফেলা হতো।

পরে ওই মালামাল অন্যত্র বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত চক্রের সদস্যরা।

এই প্রক্রিয়া এতটাই নিখুঁত ছিল যে দীর্ঘদিন কোম্পানির নজর এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে যাদের নাম উঠে এসেছে, কোম্পানির প্রতিনিধি কনক দত্ত, ড্রাইভার শরিফুল, রাজু, হাসান ট্রান্সপোর্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের স্কেলকর্মী মিঠুন ও সোহাগ। আরও কয়েকজন অজ্ঞাত সহযোগী স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এরা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করত এবং নিয়মিতভাবে লুটপাট চালিয়ে আসছিল।

চুরির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। চক্রের সঙ্গে জড়িত সোহাগ নামে এক ব্যক্তি ভিডিও বার্তায় পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন এবং কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেন, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ফারাজী ট্রেডিংয়ের মালিক রাজু ফারাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, হাসান ট্রান্সপোর্টের মালিক বাবু হাওলাদার বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে এসে কেউ চুরি করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি এবং তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এত বড় আকারে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে না আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নওয়াপাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের সংঘবদ্ধ চুরি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিই নয়, বরং পুরো বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এই চক্রের বিরুদ্ধে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর