[bangla_day] , [english_date] || [bangla_date] - [bangla_season] || [hijri_date]

নওয়াপাড়ায় ট্রাকভর্তি ভূষিমালে গায়েব ৪-৫ টন! চোরচক্রের সংগঠিত লুটপাটে তোলপাড়

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
চালান ঠিক, স্কেল স্লিপ ঠিক, তবুও পথে উধাও মালামাল; ভিডিও বার্তায় ফাঁস চক্রের ভেতরের চিত্র, জড়িত একাধিক ব্যক্তি। যশোরের অভয়নগরের শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র নওয়াপাড়ায় ট্রাকভর্তি ভূষিমাল পরিবহনের আড়ালে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ভয়ংকর লুটপাটের ঘটনা ফাঁস হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চক্রটি অত্যন্ত কৌশলে প্রতি ট্রাক থেকে ৪ থেকে ৫ টন পর্যন্ত মালামাল গোপনে সরিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে আসছিল বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, দেশের স্বনামধন্য আর আর পি কোম্পানির ভূষিমাল প্রতিদিন নওয়াপাড়া থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকে পরিবহন করা হয়। এ পরিবহনের দায়িত্বে রয়েছে নওয়াপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন ফারাজী ট্রেডিং, যার মালিক রাজু ফারাজী। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চক্রটির অভিনব কৌশল, একটি ট্রাকে যেখানে ২৫ টন ভূষিমাল থাকার কথা, সেখানে চালান ও স্কেল স্লিপ ঠিক রাখা হতো। কিন্তু বাস্তবে গোপনে ৪–৫ টন মালামাল আগেই নামিয়ে ফেলা হতো।

পরে ওই মালামাল অন্যত্র বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত চক্রের সদস্যরা।

এই প্রক্রিয়া এতটাই নিখুঁত ছিল যে দীর্ঘদিন কোম্পানির নজর এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে যাদের নাম উঠে এসেছে, কোম্পানির প্রতিনিধি কনক দত্ত, ড্রাইভার শরিফুল, রাজু, হাসান ট্রান্সপোর্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের স্কেলকর্মী মিঠুন ও সোহাগ। আরও কয়েকজন অজ্ঞাত সহযোগী স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এরা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করত এবং নিয়মিতভাবে লুটপাট চালিয়ে আসছিল।

চুরির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। চক্রের সঙ্গে জড়িত সোহাগ নামে এক ব্যক্তি ভিডিও বার্তায় পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন এবং কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেন, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ফারাজী ট্রেডিংয়ের মালিক রাজু ফারাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, হাসান ট্রান্সপোর্টের মালিক বাবু হাওলাদার বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে এসে কেউ চুরি করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি এবং তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এত বড় আকারে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে না আসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নওয়াপাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে এ ধরনের সংঘবদ্ধ চুরি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিই নয়, বরং পুরো বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত ও কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এই চক্রের বিরুদ্ধে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।