রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :

অভয়নগরে বেসরকারি রিজিয়া হাসপাতালে আর কতো মৃত্যু হলে কর্তৃপক্ষের চোখ খুলবে

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর):
আপডেট সময়: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

রিজিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগীর মৃত্যু: এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য, তদন্তের দাবি।

যশোরের অভয়নগরে বেসরকারি চিকিৎসাসেবার গাফিলতি ও ভুল রিপোর্টের কারণে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, রিজিয়া মেমোরিয়াল (প্রাঃ) হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত সাখাওয়াত মোল্যার ছেলে মোঃ সুলাইমান অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সাদিয়া (২৫)-এর মৃত্যু হয়েছে ভুল রিপোর্ট ও চিকিৎসায় চরম অবহেলার কারণে।

তার দেড় বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল তলপেটে তীব্র ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ে সাদিয়াকে ভর্তি করা হয় উক্ত বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে প্রায় ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুইদিন পর রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক বলে জানিয়ে তাকে বাড়িতে বিশ্রামে পাঠায়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পরই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে ৩ মে তাকে নওয়াপাড়ার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে পরীক্ষায় বাম অ্যাডনেক্সাল অঞ্চলে সিস্ট সদৃশ একটি জটিলতা ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা দ্রুত খুলনায় উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন।

এরপর তাকে ভর্তি করা হয়, আদ্বদীন হাসপাতালে।

সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা একটোপিক প্রেগন্যান্সি শনাক্ত করে জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। গত ৫ মে অস্ত্রোপচারের পর রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৬ মে রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। অভিযোগে বলা হয়, প্রথম হাসপাতালে দেওয়া আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে “সিস্টাইটিস” উল্লেখ করা হয়, যা মূলত মূত্রাশয়ের সংক্রমণজনিত সমস্যা। অন্যদিকে পরে পরীক্ষায় প্রাণঘাতী জটিলতা একটোপিক প্রেগন্যান্সি ধরা পড়ে। পরিবারের দাবি, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে সাদিয়ার জীবন রক্ষা সম্ভব হতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক চিকিৎসা অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন সময় রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। অনভিজ্ঞ স্টাফ দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।

তবে এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন, পরে বিষয়টি দেখবেন। এবিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আইয়ুব আলী বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ অভিযোগ করলে তা সরাসরি আমাকে জানাতে হবে। স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি করা হয়, অতীতেও একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গত বছরের ২৭ আগস্ট একই হাসপাতালে আরেক গৃহবধূ ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিবারই কোনো কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভুল চিকিৎসা ও হাসপাতালের দায়িত্বহীনতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভয়নগরে নতুন করে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে,বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি আসলে কতটা কার্যকর?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর