বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর সংরক্ষিত নারী আসনে (পাবনা-সিরাজগঞ্জ) প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন পাবনার চাটমোহরের কৃতী মেয়ে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।
বিএনপি সোমবার (২০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করে। এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন চাটমোহর উপজেলা সদরের আফ্রাতপাড়া মহল্লার প্রয়াত বিএনপি নেতা হাজী আক্কাস আলী মাস্টারের বড় মেয়ে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দুই দিনে প্রায় ৯০০ মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়ার পর তুলনামূলক তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে রুমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা তৈরি হয়েছে। পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চল থেকে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন।
রাজনৈতিক পথচলা
আরিফা সুলতানা রুমার রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্ররাজনীতি থেকে। তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইডেন কলেজ শাখার দুবার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং সংগঠনকে সক্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দুবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
১/১১-এর পর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপির কর্মকাণ্ড জোরদার করতে তিনি অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর) দলীয় প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নারী ভোটারদের মাঝে ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকায় সব আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় অংশ নিয়েছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন, রিমান্ড ও হাজতবাসও করতে হয়েছে।
শিক্ষা ও পেশা
রুমা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং এলএলবি পাস করে বর্তমানে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থার কারণেই তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকায় অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমার পাশাপাশি সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, নিপুণ রায় চৌধুরী, হেলেন জেরিন খানসহ অভিজ্ঞ ও তরুণ নেত্রীরা রয়েছেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও নবীনত্বের সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে এবারের তালিকায়।
মনোনয়ন ঘোষণার পর পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। চাটমোহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকরা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ-উৎসব করেছেন।
স্থানীয় নেতারা আশা করছেন, জাতীয় সংসদে সুযোগ পেলে অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমা চাটমোহর ও আশপাশের এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন।
মনোনয়ন পাওয়ার পর অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
“এ অর্জন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বুকে নিয়ে রাজপথে লড়াই করা সকল দলীয় নেতা-কর্মীর। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি— অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো, ইনশাআল্লাহ।”