সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজ’র দুর্নীতির সাম্রাজ্যে বলির পাঁঠা নাইট গার্ড

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর(যশোর):
আপডেট সময়: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

যশোরের মনিরামপুরের মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের দুর্নীতির সাম্রাজ্য ও অপকর্মের চিত্র যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, ভুয়া নিয়োগ, সই জালিয়াতি থেকে শুরু করে তাঁর বিরুদ্ধে উঠে এসেছে আরও এক রোমহর্ষক অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের এক নিরীহ নাইট গার্ডকে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়ার পর রহস্যজনকভাবে গুম করে রাখা! কোনো প্রকার কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার পর থেকে গত এক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম নাইট গার্ড রাজকুমার মন্ডল।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী মিনতি বেগম গত বৃহস্পতিবার মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার অফিসার ইনচার্জ এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​প্রশাসনকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে নিখোঁজ রাজকুমার মন্ডলের স্ত্রী মিনতি বেগম উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সততা ও নিষ্ঠার সাথে নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান তাকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে একটি লিখিত কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে নানা ধরনের মানসিক হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে রাজকুমার তাঁর স্ত্রীকে আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন, অধ্যক্ষ তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং তাঁর আর চাকরি করা হয়তো সম্ভব হবে না।

এর কিছুদিন পর, গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সকল আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ নাইট গার্ডের স্ত্রী আরও জানান, তাঁর স্বামী স্বেচ্ছায় বা স্বাধীন ইচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নেননি। অধ্যক্ষ পরিকল্পিতভাবে মানসিক চাপ, শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন।

এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। অধ্যক্ষের পূর্বের হুমকি ও নির্যাতনের কারণে ভুক্তভোগী পরিবার এখন চরম উদ্বেগ ও প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছে।

​তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান জানান, চাকরিগত কিছু সমস্যার কথা কয়েক মাস আগে রাজকুমার তাকে জানিয়েছিল এবং মানবিক কারণে তিনি তাকে ২০ হাজার টাকাও দিয়েছেন, তবে নিখোঁজের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

অন্যদিকে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাইদ জানান, লিখিত অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক অলোক কুমার বিশ্বাস এবং তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন জানান, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​নাইট গার্ড রাজকুমারের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কলেজের ভেতরের কী গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে? না কি তার পোস্টে অন্য কাউকে  নিয়োগ দিয়ে নিয়োগ বানিজ্য করা?  শুধুই কি একজন নাইট গার্ডকে তাড়িয়ে দেওয়া, নাকি এর পেছনে রয়েছে লক্ষ লক্ষ  টাকার নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ভুয়া পত্রিকা বানানোর মহা-প্রতারণা? আমাদের টেবিলে চলে এসেছে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের জালিয়াতির হাজারো গোপন নথি, যার মাধ্যমে আগামী পর্ব থেকে একে একে উন্মোচিত হবে তাঁর গড়ে তোলা সেই অপরাধের বিষবৃক্ষ।

​ পর্ব-২ এ থাকছে ‘২০১৮ সালে জন্ম নিল ২০০৫ সালের ভুয়া পত্রিকা!’ সেখানে ছাপাখানা থেকে জাল পত্রিকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য এবং ইউএনও ও গভর্নিং বডির সই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর নেপথ্য গল্প তুলে ধরা হবে। এছাড়া পরবর্তী পর্বগুলোতে থাকবে রেজুলেশন খাতার ১৮, ৩৭ ও ৪২ নম্বর পৃষ্ঠায় সই জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ, চৌগাছা কলেজের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ‘ডাবল চাকরি’ করা, শিক্ষা বোর্ড দালালি, জমি দখল এবং বিআরটিএ ও পাসপোর্ট সিন্ডিকেটের এক্সক্লুসিভ খতিয়ান। অকাট্য প্রমাণ ও চূড়ান্ত ডকুমেন্টের সত্যতা নিয়ে চোখ রাখুন বিশেষ পর্বে, জালিয়াতির মহাদৈত্য: ২০১৮ সালে জন্ম নিল ২০০৫ সালের ভুয়া পত্রিকা! (পর্ব-২)


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর