বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন

জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন, চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছেন পলাশ পাহান

দুলাল হক, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার কশালগাঁও গ্রামের পাহানপাড়া বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আদিবাসী পলাশ পাহান দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে বর্তমানে নিজ বাড়িতেই চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার।দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার কারণে পলাশ পাহানের শরীরের বিভিন্ন অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেছে। বিশেষ করে তার দুই পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত ফোলা এবং ঘা দেখা দিয়েছে। অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
পলাশ পাহান শিবলাল পাহানের ছেলে। একসময় তিনি পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার আয়ের ওপর নির্ভর করেই কোনোভাবে পরিবারের নিত্যদিনের খরচ চলত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় এখন পরিবারটির আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।পলাশের পরিবারের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরে পরিবারের চার সদস্য কোনোভাবে বসবাস করছেন। নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা পরিবারের কাছে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পলাশের ছোট ভাইও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। বাবা শিবলাল পাহান বয়স ও অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। মায়ের অবস্থাও ভালো নয়। ফলে পরিবারের ভরণপোষণের বড় দায়িত্বটি এতদিন পলাশের ওপরই ছিল। তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
অসুস্থ পলাশ পাহান বলেন, আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু টাকার অভাবে আমার চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। আমার শরীর, হাত-পা ফুলে গেছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আমাকে আর্থিক সহযোগিতা করুন, যেন চিকিৎসা করাতে পারি।
পলাশের বাবা শিবলাল পাহান বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। টাকার অভাবে তাকে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমাদের নিজের কোনো জায়গা-জমিও নেই। এক ছেলে মানসিক সমস্যায় ভুগছে, আমিও বয়সের কারণে কাজ করতে পারি না। ছেলের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন করছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ভয়েল কুমার রিপন বলেন, পলাশ আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। তার বাড়িতে গিয়ে আমি নিজ চোখে পরিবারের খুবই মানবেতর অবস্থা দেখেছি। বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। আমাদের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজকের মধ্যেই পরিবারের হাতে সহযোগিতা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি। পলাশের চিকিৎসার জন্য সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
 জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি যাকোব খালকো বলেন, পলাশ পাহানের অসুস্থতার বিষয়টি আমরা শুনেছি। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে এবং পরিবারটি অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিষয়টি জানার পর জাতীয় আদিবাসী পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে পলাশের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা যায়।
তিনি বলেন, আমাদের আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনেক পরিবারই বর্তমানে নানা সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পলাশ পাহানের চিকিৎসার জন্যও আমরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অসুস্থ পলাশের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিসহ সবাইকে মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পলাশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। তাই জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং সমাজের সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে পরিবারটি।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর