শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

ভাঙ্গুড়া থেকে অসুস্থ গরুর মাংস পরিবহন কালে ফরিদপুরে দু জন আটক

মেহেদী হাসান, ফরিদপুর (পাবনা):
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

পাবনার ফরিদপুরে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস হিসেবে সিএনজিতে পরিবহন কালে এবং সেই মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে ফরিদপুর থানা পুলিশ।
বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া গ্রামের কাশেমপুর বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে জবাই করা গরুর মাংস উদ্ধার করে মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—সাঁথিয়া উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামের মুনজুর আলীর ছেলে মোঃ রবিন এবং খান মোহাম্মদপুর গ্রামের তাজের প্রামাণিকের ছেলে মোঃ বাবুর আলী। তারা সবাই সাথিয়া পৌরসভা এলাকার কসাই।ভাজ্ঞুড়া উপজেলার বাসিন্দা শেরশাহ ও উজির নামে আরো দুই ব্যাক্তি পালিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিরা ভাঙ্গুড়া উপজেলার চর ভাঙ্গুড়া খাঁপাড়া এলাকা থেকে একটি অসুস্থ গরু কিনে মাংস হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে সাথিয়ায় নিয়ে যাচ্ছিলো এবং এই মাংস তারা সাথিয়া কসাই খানায় বিক্রি করবে বলে জানাই । পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গরুটি জবাই করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দা শেরশাহ ও উজুর নামে আরও দুজন সহযোগিতা করেছেন বলে জানা গেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফরিদপুর উপজেলার কাশেমপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনজুরুল হাসান মাসুদের নেতৃত্বে এসআই নুর মোহাম্মদসহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে। এ সময় জবাই করা গরুর মাংসও উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন ও উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোঃ আলহাজ্ব উদ্দিন উপস্থিতিতে উদ্ধার করা মাংস ফরিদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের পেছনে প্রায় ছয় ফুট গভীর গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ পশু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে এর আগেও তারা এমন কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন।
আটককৃত ব্যক্তিদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন বলেন, অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বাজারজাত ও বিক্রির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর