পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি শ্যালো মেশিনের ইঞ্জিন চুরির ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে চুরির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী বটতলা এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. ইব্রাহিম হোসেন দাশুড়িয়া কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ভাড়ইমারী এলাকার মো. কুদ্দুস হোসেন এর ছেলে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি বর্তমানে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক পদের প্রত্যাশী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক ময়েন শাহর জমি থেকে একটি শ্যালো ইঞ্জিন চুরি হয়। পরবর্তীতে ইঞ্জিন খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন (ফরহাদ) স্থানীয়দের কাছে চুরির কথা স্বীকার করেন। ফরহাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি করা ইঞ্জিনটি ভ্যানে করে প্রথমে দাশুড়িয়া বাজারে এবং পরে চাটমোহরে নিয়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। বিক্রির টাকার সুষম বণ্টন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অপর এক অভিযুক্ত ইঞ্জিনের মালিককে পুরো বিষয়টি জানিয়ে দেন। এরপর ভুক্তভোগী কৃষক স্থানীয়দের সহায়তায় রাহুল ও ফরহাদকে আটক করে সাবেক ইউপি সদস্য খবির উদ্দীনের নিকট নিয়ে যান। এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য খবির উদ্দীন জানান, “বৈঠকে রাহুল ও ফরহাদ চুরির কথা স্বীকার করে জানায় যে, বিক্রির ৭ হাজার টাকার মধ্যে তাদের মাত্র ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি ৬ হাজার টাকা ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম নিজের কাছে রেখে দেন।” পরবর্তীতে সলিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহির মণ্ডল ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় আয়োজিত সালিশী বৈঠকে অভিযুক্তদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে উঠা চুরির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, তার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যে অবজারভেশনে রেখেছি। সঠিক তথ্য উদঘাটনের জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ উদ্যোগে গোপনে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।” তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত বা দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, সরাসরি কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।