বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

আটোয়ারীতে জঙ্গলমারা বিষ স্প্রে করে বেগুন ক্ষেত জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে রাতের আঁধারে এক কৃষকের ৭৫ শতক জমির বেগুন ক্ষেত জঙ্গলমারা বিষ(প্যারাকোয়াট) স্প্রে প্রয়োগে বিনষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। স্বপ্নের ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের গাঞ্জাবাড়ি এলাকার যুগিকাটা মৌজায়। পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের গাঞ্জাবাড়ি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বেগুন চাষী মৃত তসলিম উদ্দীনের পুত্র মোঃ আফাজ উদ্দীন(৩৬) বলেন, প্রায় দেড় লক্ষাধীক টাকা খরচ করে ৭৫ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছি। ফলনও হয়েছে ভালো। সম্প্রতি এ ক্ষেত হতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। ২/১ দিনের মধ্যে আবারো দ্বিতীয় ধাপে বেগুন বিক্রি করার প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করেছিলাম, এ বেগুন ক্ষেত থেকে প্রায় ৩ লক্ষাধীক টাকা আয় হবে। বেগুন ক্ষেত নষ্ট হওয়ার ফলে আমি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। যে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমার বেশ সময় পার করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত আফাজ উদ্দীন বলেন, এই বেগুন ক্ষেতের জমি নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা ও ফৌজদারী মামলাসহ ৫টি মামলা চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে আফাজ উদ্দীন বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলার গাঞ্জাবাড়ি এলাকার মৃত হাসাই মোহাম্মদের ছেলে মোঃ আবুল(৪৮)কে প্রধান বিবাদীসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে আটোয়ারী থানায় অভিযোগ করেছেন।
আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, সামাজিক ও গোষ্ঠীগত বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে এটা হতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিক ধারণা করছে। তবে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য কোনো বিশেষ মহল এমন করছে কি না সেটাও উড়িয়ে না দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাক আহমেদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বিষয়টি অনেক দেরীতে জানিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত জানাতে পারলে, ওই বেগুন ক্ষেতে প্রচুর পানি ছিটিয়ে বেগুন ক্ষেতটি বাঁচানোর চেষ্টা করা যেতো। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিসার দুঃখ করে বলেন, ইদানিং আটোয়ারীতে রোপা আমন ক্ষেত সহ বিভিন্ন শাক-সবজি’র ক্ষেত রাতের আঁধারে নষ্ট করার প্রবনতা বেড়ে গেছে। কৃষকের পরিশ্রমের ফসল যারা রাতের আঁধারে বিনষ্ট করছে তারা পশুর মতো। ভরা ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পথে বসে যাচ্ছেন। যে বিরোধের জের ধরেই হোক না কেন কৃষকের ক্ষতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কুষি অফিসার বলেন, যারা এ কাজ করেছে, তারা অত্যান্ত নিন্দনীয় কাজ  করেছে। এতে শুধু কৃষকেরই নয়, খাদ্য উৎপাদনেরও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে প্রনোদনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
অভিযুক্ত আবুল হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে, তিনি বলেন, আমি পরিবারসহ ঢাকায় থাকি। গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পঞ্চগড় আদালতে মামলার তারিখ ছিল। এজন্য গ্রামের বাড়িতে এসেছিলাম। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আবার ঢাকায় চলে এসেছি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে আমি জানি না। তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, যে জমির বেগুন ক্ষেত নষ্টের কথা বলা হচ্ছে, সেই জমি নিয়ে  অভিযোগকারী আফাজ উদ্দীনের সাথে বর্তমানে ৫ টি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। আফাজ উদ্দীন আমাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরণের কাজ করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর