বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে শ্যালো ইঞ্জিন মেশিন চুরির অভিযোগ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নে  ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে শ্যালো ইঞ্জিন চুরির টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছলিমপুর ইউনিয়নের ময়েন শাহ নামের এক কৃষকের বাড়ির পাশের জমি থেকে গত কয়েক দিন আগে একটি শ্যালো ইঞ্জিন চুরি হয়। পরবর্তীতে কৃষকের খোঁজখুঁজি ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রাহুল ও ফরহাদ নামের দুই যুবককে চুরির সাথে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়। আটককৃতরা স্থানীয় ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিমের রাজনৈতিক অনুসারী হিসেবে পরিচিত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাঁর সঙ্গে অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, চুরি করা শ্যালো মেশিনটি বিক্রির উদ্দেশ্যে দাশুড়িয়া বাজারে নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হন ওই দুই যুবক। এ সময় তারা ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিমকে ফোন করলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন। পরবর্তীতে মেশিন বিক্রির টাকার বড় অংশ ওই ছাত্রদল নেতা নিজে নিয়ে গেছেন—এমন গুঞ্জন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য খবির উদ্দীনের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ বা বিচারসভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত রাহুল ও ফরহাদ চুরির কথা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে সাবেক মেম্বার খবির উদ্দীন জানান, “বৈঠকে রাহুল ও ফরহাদ স্বীকার করেছে যে তারাই মেশিনটি চুরি করেছে। তারা আরও জানায়, বিক্রির টাকার একটি অংশ—মাত্র ৫শত টাকা করে মোট ১হাজার টাকা তাদের দেওয়া হয় এবং বাকি ৪ হাজার টাকা ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম নিজে নিয়ে নেন।” তবে স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, এলাকায় চালের ডিলারশিপ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে এই চুরির ঘটনায় ওই ছাত্রদল নেতার নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।
পরবর্তীতে স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঈন মন্ডল এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় এক সালিশি বৈঠকে অভিযুক্তদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মেশিনের মালিক ময়েন শাহ বলেন, “আমি মূলত আমার চুরি যাওয়া মেশিন ও চোরদের পেয়েছি এবং স্থানীয়ভাবে তাদের বিচারও হয়েছে। তারা মেশিন চুরির কথা স্বীকার করেছে। তবে ইব্রাহিমের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা বা টাকার ভাগের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এখন রাজনৈতিক রঙ লাগানোর চেষ্টা চলছে।” উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ইব্রাহিম বলেন, সম্প্রতি একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত দীর্ঘদিন ধরে চালের ডিলারশিপ ও স্থানীয় একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল আমার রাজনৈতিক সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হলো— সেদিন ঘটনাটি সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। পাবনা যাওয়ার পথে আমাকে ফোন করে জানানো হয় যে, দাশুড়িয়ায় বিপদে পড়ে কয়েকটি ছেলে আটক হয়েছে। তখন আমি শুধু ফোন দিয়ে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত সমাধান করতে বলি। ঘটনাস্থলে আমার উপস্থিতি বা চুরির সাথে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ বা ডকুমেন্ট কেউ দেখাতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঈজ কাকার উপস্থিতিতে উভয়পক্ষ বসে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়। সেখানে সালিশে ১০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর