ভুক্তভোগি আজিজুল ইসলাম জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রাতোয়াল পূর্বপাড়ার মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে দুলাল জোরপূর্বক পুকুরের পূর্ব পাড় থেকে একটি বড় গাছ কেটে বিক্রি সহ বিভিন্ন প্রজাতির অনেক গাছ ভেঙে ফেলে। গাছগুলো আজিজুল ইসলামের মায়ের নামে থাকা জায়গায় ছিল। পুকুর ও পুকুরপাড় সহ মোট ২৭ শতক জমির দলিল ও খাজনা-খারিজ ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাঁর মায়ের নামে রয়েছে। তবে জমিটি তাঁরা নিজেরা দখলে নেননি। কারণ তাঁর ছোট মামা ওই জমি ভোগ করতেন। আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তখন তাঁরা কিছু বলেননি। ভেবেছিলেন পরে প্রয়োজন হলে জমি ফিরিয়ে নেবেন। কিন্তু জমি ফেরত চাইতে গেলে মামা জাল দলিল দিয়ে মামলা করেন। সেই মামলার রায় (ডিক্রি) আজিজুলদের পক্ষে আসে।
আজিজুল অভিযোগ করে বলেন, ২০১৩ সাল থেকে তাঁর খালাতো ভাই শফিকপুর গ্রামের রাজু জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। জমি ছেড়ে না দেওয়ায় আজিজুল সম্প্রতি জায়গাটি বিক্রির উদ্যোগ নেন এবং ক্রেতাও ঠিক করেন। কিন্তু এর পরই রাজু বিক্রির বিরুদ্ধে বাটোয়ারা মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত জমি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। মোট সাড়ে চার বিঘা জমির মধ্যে তাঁর মায়ের অংশ ২৭ শতক, বাকিটা অন্য খালাদের। খালাতো ভাই রাজু বিবাদমান ২৭ শতক জমির জন্য ৫ লাখ টাকা এবং বাকি আরো জমির জন্য ৮ লাখ টাকা দিয়ে পুরোটা কিনে নিতে চান। কিন্তু আজিজুলের দাবি, এটি বর্তমান বাজারদরের অর্ধেকেরও কম। এই দামে জমি বিক্রি করতে তাঁরা রাজি নন, অথচ রাজু জোর করে সেই দামেই জমি নিতে চাইছেন।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে দুলালের বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী বলেন, পুকুরটির অংশীদার আজিজুলের মা ও তাঁর আরও দুই খালা। তাঁর স্বামী দুলাল রাজুর কাছ থেকে পুকুরটি লিজ নিয়ে প্রায় ১০-১২ বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছেন। পুকুরের পূর্ব পাড়ের গাছটিতে বজ্রপাত হলে গাছটি মরে যায়। তখন রাজু গাছটি কেটে বাজারে বিক্রি করে দিতে বলে তখন দুলাল গাছটি বিক্রি করে দেয়।
অজিজুল ইসলামের জমি ক্রয় করতে চাওয়ার অপরাধে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক মোর্শেদা বেগম নামে এক নারীর রোপণকৃত বেশকিছু গাছ ভেঙে ফেলেছে একই প্রতিপক্ষরা।
এঘটনায় মোর্শেদা বেগম উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও থানায় ৭জনের জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাতোয়াল মৌজার হাল খতিয়ান নং-২২৬, দাগ নং-১০৪৪, জমির পরিমাণ ৩০ শতাংশ, এর মধ্যে কবলা মূলে ৫.২৫ শতাংশ জায়গায় মোর্শেদা বেগম বসবাস করে আসছে। ১০৪৪ দাগে জমির উত্তর পার্শ্বে ১নং খতিয়ানভুক্ত ১০২৬ নং দাগে কিছু পরিমাণ সরকারি খাস জমিও আছে। গত (১৩-০৯-২৬)ইং তারিখে রাতোয়াল গ্রামের প্রতিপক্ষ আব্দুল প্রাং এর ছেলে রহিদুল, সালাম, কালাম ও আফাজ এর ছেলে দুলাল, মেয়ে আছমা, এবং তনু মৃধার মেয়ে আকলি সহ মোবারদ্দি ছেলে ওই জায়গায় রোপণকৃত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙে ও কেটে দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এবিষয়ে রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জের। দ্রুত দু’পক্ষকেই ডেকে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।
এব্যাপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন বলেন, বাহিরে আছি ঠিক মনে পড়ছে না। অফিসে গিয়ে অভিযোগটি দেখে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।