বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :

সখের বসে মৎস্য চাষ করে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা আটঘরিয়ার “নাজমা শারমিন”

মাসুদ রানা, আটঘরিয়া(পাবনা):
আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নাজমা শারমিন ইতোমধ্যে বেশ অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন। মাছ চাষে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক লাভ করেছেন তিনি। তাঁর নিজস্ব ৮ বিঘা জমিতে পুকুর করে গড়ে তুলেছেন “পাঠান মৎস্য খামার”।
নিজ গ্রামের ৮ বিঘা পুকুরে তাঁর প্রকল্প এরই মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ সকল পুকুরে বর্তমানে রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্লাস কার্প, শিং, মাগুর, গুলশা মাছের চাষ হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে তাঁর প্রকল্পে উৎপাদিত মাছের বিক্রির পরিমাণ ১০-১২ লাখ টাকার উপরে পৌঁছবে বলে আশা করছেন উদ্যমী এই নারী উদ্যোক্তা নাজমা শারমিন।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, তিনি নিজ উদ্যোগে জোগাড় করা অল্প কিছু টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেছিলেন মাছের উৎপাদন। এ কাজে তাঁর পাশে  সহযোগী হিসেবে ছিলেন স্বামী মোঃ সিদ্দিক পাঠান।
প্রচুর পরিশ্রম করে পুকুর গুলো প্রতিষ্ঠা করলেও প্রথমে তেমন ভালো ফল পাননি। কিন্তু তাতে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেননি নাজমা।
ভেঙে না পড়ে নিজ গ্রামে পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। ইতোমধ্যে নাজমা শারমিনের মাছ চাষ প্রকল্পে ভালো ফল আসতে শুরু করেন। তাঁর মাছ চাষের সাফল্য দেখতে অনেকেই পরামর্শ নিতে ছুটে আসেন।
গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করতেই তাঁর এ উদ্যোগ বলে তিনি জানালেন। তাঁর নতুন উদ্যোগে অনেক গ্রামীণ নারীই উৎসাহ বোধ করেছেন ইতোমধ্যে।
নাজমা শারমিন  বলেন, গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে নারীর সর্বাত্মক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এখন নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।
তাঁর মতে অনেক নারীই এখন ঘরের চার দেয়ালের মাঝে নিজেদের বন্দী রাখতে রাজি নন। নিজের যোগ্যতা আর সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভাগ্যের পরিবর্তন করতে তারা অনেকটাই মনোযোগী এখন।
এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করে, তাহলে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারেন বলে মনে করছেন এই নারী উদ্যোক্তা নাজমা শারমিন।
তিনি আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের সড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত নিয়ামত আলী মাস্টারের মেয়ে নাজমা শারমিন। তাঁর স্বামী মোঃ সিদ্দিক পাঠান একজন বিশিষ্ট সমাজ সেবক। তিনি দীর্ঘ সময় মেডিসিন কোম্পানীতে কর্মজীবন অতিবাহিত করে বর্তমান অবসর জীবনে দরবেশপুর বাজারে “পাঠান মেডিকেল হল” নামে একটি সেবামূলক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
একজন সফল নারী উদ্যোক্তা নাজমা সারমিন এক সময় হাঁস-মুরগি পালন করতেন। তবে তিনি সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় শুরু করেন মাছ চাষ। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।
 বর্তমানে নাজমা শারমিন একজন গৃহিনী। তিনি
১ ছেলে ১ মেয়ের জননী । তাঁর ছেলে বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেলে শেষবর্ষ এবং মেয়ে পাবনা বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নিজেও মানবিক বিভাগ থেকে গ্রেজুয়েশন সম্পন্ন করা একজন শিক্ষিত রমনী।
উল্লেখ্য যে, তাঁর মা ফাতেমা খাতন গত ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শ্রেষ্ঠ মা হিসেবে আটঘরিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেএকজন “রত্নগর্ভা মা হিসেবে” স্বীকৃতি লাভ করেন।
নাজমা শারমিন ৬ বছর ধরে তিনি মৎস্য চাষ করে আসছেন। মাছ চাষ করে নাজমা শারমিন বছরে ১০/১২ লাখ টাকা আয় হয়। তাঁর এই সফলতা দেখে
আটঘরিয়া উপজেলা মৎস্য অফিস তাঁকে একজন “সফল নারী উদ্দ্যোক্তা” হিসেবে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করেছেন।
আটঘরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম নাজিম উদ্দীন বলেন, নাজমা শারমিন মৎস্য খামার গড়ে তুলে এখন স্বাবলম্বী। তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা।
২০২৬ সালে মৎস্য পক্ষ উদযাপনে তাঁকে সম্মাননা স্মারক হিসাবে ক্রেস্ট পুরস্কার দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক দিক দিয়ে তাঁকে মৎস্য অফিস থেকে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর