লাইসেন্সহীনতা, অপরিচ্ছন্ন অপারেশন থিয়েটার ও মানহীন সেবায় কঠোর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের সতর্ক বার্তা। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় হাসপাতাল রোডসংলগ্ন বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দিন দীপু। এ সময় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অশীষ কুমার বসু, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান সূত্রে জানা যায়, লাইসেন্সের নথি হালনাগাদ না থাকায় ফয়সাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও এবি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে পৃথকভাবে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে লাইসেন্স সংক্রান্ত অসামঞ্জস্যতা ও অন্যান্য ত্রুটির কারণে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সবচেয়ে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে আব্দুল মুকিত বিশ্বাস (প্রা:) ক্লিনিকে। প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন থিয়েটারে অপরিচ্ছন্ন ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞের তথ্য ঘাটতি এবং সামগ্রিকভাবে মানহীন চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার অভিযোগে ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় এসব জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়ম চললেও তদারকি ছিল সীমিত। নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালিত হলে চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দিন দীপু সাংবাদিকদের বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে নওয়াপাড়ার স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফেরার আশা করছেন এলাকাবাসী।