রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
গণভোটের রায় মেনে নিন, নয়তো ৭০% মানুষ রাজপথে নামবে: মাওলানা এ. এইচ আব্দুল হালিম নাগরপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে যুব জামায়াতের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত তাড়াশের মিশাম হ্যাচারি সরকারি বিধি-বিধান মেনে কাজ করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আটোয়ারীতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন অভয়নগরে স্কুলে না গিয়েই বছরের পর বছর বেতন! নিজের বেতনের স্বাক্ষরদাতাকেও চেনেন না শিক্ষিকা রসালু কাঁঠালে ভরে উঠেছে নান্দাইলের বাজার, হাসি কৃষকের মুখে পাবনায় টেকসই কৃষি উন্নয়নে কৃষি তথ্য বিস্তার বর্তমান ও আগামীর করণীয় শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

অভয়নগরে স্কুলে না গিয়েই বছরের পর বছর বেতন! নিজের বেতনের স্বাক্ষরদাতাকেও চেনেন না শিক্ষিকা

মোঃ কামাল হোসেন, অভয়নগর প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন

দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন; তদন্তে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা বিভাগ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভড়াড়া ইউনিয়নের ইছামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কানিজ মুর্শিদা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে জানা গেছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার বেতনের রিটার্ন শিটে কার স্বাক্ষরে অর্থ উত্তোলন হচ্ছে, সে বিষয়েও তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, উপজেলা পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অনৈতিক সুবিধা ভোগ করে আসছেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিলা বৈরাগী ও সুমনা ইয়াসমিন জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কানিজ মুর্শিদা নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। তবুও তিনি সরকারি বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে যাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঝে মধ্যে এসে তিনি হাজিরা খাতায় একসঙ্গে অনেক দিনের স্বাক্ষর করে যান। তবে বেতনের রিটার্ন শিটে প্রকৃতপক্ষে কে স্বাক্ষর করেন, সে বিষয়ে তারা কিছুই বলতে পারেননি। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিষয়টি স্পষ্ট। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সমাপ্তি ও তাজমিনকে শিক্ষিকার ছবি দেখানো হলে তারা তাকে চিনতে পারেনি। স্বাধীন নামে আরেক শিক্ষার্থী জানায়, প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় একবার তাকে দেখেছিল, এরপর আর কখনো দেখেনি। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও।

ঘটনার দিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন জেলা শিক্ষা অফিসে অবস্থান করায় তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা কানিজ মুর্শিদার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে নওয়াপাড়ার বাসায় অবস্থানের কথা বলেন। পরে অবস্থান পরিবর্তন করে জানান, তিনি চট্টগ্রামে আছেন। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এটা করা ঠিক হয়নি, আমার ভুল হয়েছে। তিনি আরও জানান, তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তবে বেতনের রিটার্ন শিটে কার স্বাক্ষরে অর্থ উত্তোলন হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, আমি এই ক্লাস্টারে নতুন এসেছি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওলিউজ্জামান বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি আমার নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিস্তারিত জানতে রবিবার অফিসে এসে জানাতে পারবো। যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিও) জি এম আলমগীর কবির বলেন,

বিষয়টি জানার পর ৯ জুন আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে এবং সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর