মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
বমু বিলছড়িতে গলায় লিচুর বিচি আটকে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু ঘুষ না দিলে করে হয়রানি; ভুয়া খতিয়ানেও করে দেয় খারিজ সাতক্ষীরার সুন্দরবনে গুলি করে কাঁকড়া শিকারিকে হত্যার অভিযোগ বনবিভাগের বিরুদ্ধে  সিরাজগঞ্জ প্রান্তিক জনপদের  হত-দারিদ্রদের মাঝে ১০ কেজি করে  ভি,জে,এফ, এর চাল বিতরণ অনুষ্ঠিত সরকারি রাস্তার ইট তুলে ইউপি সদস্যের বাড়িতে পাকা বাথরুম, ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসী দেবোত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান চঞ্চল এর বড় ভাইয়ের উপর সন্ত্রাসী হামলায় গুরুত্বর আহত হাসপাতালে ভর্তি  গুরুদাসপুরে আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন নওয়াপাড়ার আলোচিত ব্যবসায়ী আনিছুর হত্যার মূল হোতা গ্রেফতার

বাংলা গদ্যের রূপকারের ভিটা রক্ষায় নেই কোনো স্থায়ী উদ্যোগ

মোঃ সজিব হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু নাম থাকে, যারা শুধু কলম হাতে নিয়েই নয়—সমগ্র জাতিকে এক নতুন ভাষাশৈলীর দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।
তেমনই এক আলোকবর্তিকা প্রমথ চৌধুরী।
তিনি শুধু একজন সাহিত্যিক ছিলেন না—ছিলেন বাংলা গদ্যের রূপকার, চলিত ভাষার প্রবর্তক,
যার হাতে বাংলা গদ্য সাহিত্যে এসেছে আধুনিকতা, সরলতা আর নান্দনিকতা।
তার জন্মভূমি পাবনার চাটমোহরের হরিপুর গ্রাম, যে মাটিতে প্রথম শ্বাস নিয়েছিলেন এই জ্ঞানতাপস
আজ সেই পবিত্র ভূমি দাঁড়িয়ে আছে অবহেলিত, পরিত্যক্ত আর নিঃসঙ্গ হয়ে।
দর্শনীয় সেই ভিটাটি—যা হওয়া উচিত ছিল একটি স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র,
আজ তা জঙ্গলে ঢেকে গেছে, ভেঙে পড়ছে দেয়াল, ধূলায় মিশে যাচ্ছে অতীত।
সম্প্রতি স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রশাসনের নজরে আসে এই বসতভিটা দখলের অভিযোগ।
হস্তক্ষেপে বাড়িটি দখলমুক্ত করা গেলেও, তাতেই থেমে গেছে উদ্যোগ।
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতিদিনই ভেঙে পড়ছে অতীতের এই প্রামাণ্য চিহ্ন।
এটি কেবল একটি পুরনো বাড়ি নয়—এটি একটি ঐতিহ্য, এটি আমাদের ইতিহাসের প্রাণ।
এখানেই শুরু হয়েছিল এক সাহিত্যমনস্ক তরুণের জীবন, যার পরিণতিতে বাংলা সাহিত্য পেয়েছে নতুন ভাষা, নতুন স্বর।
আজ সেই স্বরের উৎসস্থল—তাঁর স্মৃতি বিজড়িত এই বসতভিটা—
হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়।
আর আমরা যেন দাঁড়িয়ে আছি নীরব দর্শক হয়ে—এক জীবন্ত ইতিহাসের মৃত্যু দেখতে
স্থানীয়রা বলছেন শুধু দখল মুক্ত করাই নয়, ধ্বংসের পথে এই বসত ভিটাটি রক্ষায় প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রমথ চৌধুরীর স্মৃতি ধরে রাখতে তৈরি করা হয়েছে, প্রমথ চৌধুরীর স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ অর্থ সংকটে সেটিও মুখ থুপড়ে পড়েছে।
এলাকায় এটি স্মৃতি সংগ্রহশালা হোক যেখানে কবির বই, ছবি আর তথ্য থাকবে সেই সাথে সরকার চাইলে তার স্মরণে এখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
ইতিমধ্যেই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মুসা নাসের চৌধুরী।
প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যে অবদান যেমন বিশাল তেমনি তার স্মৃতি ও আমাদের ইতিহাসের অংশ। স্মৃতি যদি অবহেলায় হারিয়ে যায়। তা হবে অপূরণীয় ক্ষতি, স্মৃতি হারানোর আগেই প্রমথ চৌধুরী বাড়িটি হোক সাহিত্যর স্মৃতিসৌধ। এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর