বানাড়ীপাড়া উপজেলার গাভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া মমতাজের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী প্রহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার বালিঘোনা গ্রামের ফোরকানের মেয়ে ফাতেমা(৯) তার মামা বাড়ি বানাড়ীপাড়া উপজেলার গাভা গ্রামে থেকে ওই স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। ওই শিক্ষার্থীর মা ৩ মে প্রধান শিক্ষকের কাছে গণিত ক্লাস নিয়মিত না হওয়ার অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষক তাতে ক্ষেপে যান। পরের দিন ৪ মে ফাতেমা স্কুলে গেলে প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া মমতাজ লাঠি দিয়ে প্রহার করে বলেন, তোর মাকে গণিত ক্লাস নিতে বলিস। লাঠির আঘাতে সুরাইয়া এসাল্ট হয় এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৫ মে সকালে তাকে বানাড়ীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্য ডাক্তার পুলিশ কেস উল্লেখ পূর্বক শিক্ষক কর্তৃক এসাল্ট প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করে চিকিৎসা পত্র দেন। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১০০৮৩/২৯, তারিখ ০৫/০৫/২০২৬।
এ ব্যাপারে ডাক্তার মোঃ আসাদুল গালিব জানান, শিক্ষার্থী ফাতেমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া মমতাজ বলেন, আমি স্কেল দিয়ে দুটি আঘাত করেছি। এটা করা আমার ঠিক হয়নি। আমার এ কাজটি ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে এবিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করবো।
বানাড়ীপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজিব বলেন, এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া মমতাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি তার ভুল স্বীকার করেছেন। ভবিষ্যতে যাতে এরকম ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা জানান, প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া মমতাজ অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির মানুষ। ঠিকমত তিনি স্কুলে আসেন না। শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমরা তার শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।