সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় “অবৈধ ট্রলি”র দখলে চলে যাচ্ছে পাকা সড়ক, গ্রামীণ রাস্তা, আবাদি জমি ও যমুনা নদীর তীর—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ট্রলির অবাধ চলাচলে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার ঘোড়জান, খাষকাউলিয়া, খাষপুকুরিয়া ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট—স্টীল ব্রিজ, মোকার ভাঙা, শাকপাল, দক্ষিণ খাষকাউলিয়া, আজিম উদ্দিন মোড়, চর জাজুরিয়া, চরনাকালিয়া ও ভূতের মোড়সহ নানা এলাকায় ট্রলির দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে খাষপুকুরিয়া উত্তর পাড়ায় যমুনা নদীর ঘাট সংলগ্ন কয়েক একর জায়গাজুড়ে ১০–১৫ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ মোল্লার কয়েকটি ট্রলি দিয়ে দিন-রাত মাটি কাটার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব ট্রলি দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে পাকা সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, গ্রামীণ রাস্তা ভেঙে পড়ছে এবং ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “এগুলো গাড়ি নয়, যেন দানব। দিন-রাত অবাধে চলাচল করছে। রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, জমি নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়।”
তাদের দাবি, এক শ্রেণীর অসাধু বালু ও মাটি ব্যবসায়ী প্রভাব খাটিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকার নিষিদ্ধ এসব “অবৈধ ট্রলি” চালাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবৈধ ট্রলির চলাচল বন্ধ, সড়ক ও পরিবেশ রক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ভুমি মো, হাসিবুর রহমান কোন সাক্ষাৎকার দেননি।