শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানুষের আস্তা আর ভালবাসায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকতে চান সফল চেয়ারম্যান- মিজানুর রহমান  নাগরপুরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুস সালাম ঈশ্বরদীবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু

“পাহাড়ে শান্তির আলো”- সাজিদুর রহমান সুমন

চলনবিলের আলো ডেস্ক:
আপডেট সময়: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

তার বাবা, সেনা ক্যাপ্টেন সাইফুর রহমান, খাগড়াছড়ির এক শান্তির মিশনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
সেদিন পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে সোহান শুধু একটি কথাই বলেছিল-
“আমি রক্তের বদলে রক্ত নয়… শান্তি দিয়ে পাহাড় জিতব।”
প্রস্তুতির পথ
ঢাকায় এক প্রবীণ মার্শাল আর্ট মাস্টারের কাছে সোহান কুংফু ও কারাতে শেখে।
কিন্তু মাস্টার তাকে শুধু লড়াই শেখাননি।
তিনি বলেছিলেন,
“যে নিজের রাগকে জয় করতে পারে, সে-ই সত্যিকারের যোদ্ধা।”
দীর্ঘ ১১মাসের কঠোর অনুশীলনে সোহান শক্তিশালী হয়—
কিন্তু তার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে ধৈর্য আর কথা বলার ক্ষমতা।
খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পথে
খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে তখন ১৫–২০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল সক্রিয়।
তাদের নেতা-রিয়াদ, যে নিজেও একসময় অবহেলার শিকার ছিল।
সোহান সরাসরি আক্রমণ না করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে।
সে জানতে পারে-এই তরুণদের অনেকেই ভুল পথে গেছে দারিদ্র্য, ভয় আর প্রতারণার কারণে।

মুখোমুখি সংঘাত
এক সন্ধ্যায় সোহান তাদের ঘাঁটির সামনে দাঁড়ায়।
১৫–২০ জন অস্ত্র হাতে তাকে ঘিরে ধরে।
রিয়াদ বলে,
“একাই এসেছ? ভয় নেই?”
সোহান শান্তভাবে উত্তর দেয়,
“ভয় আছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় হলো-এই পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা।”
কিছু লোক আক্রমণ করতে এগোলে সোহান দ্রুত কুংফু ও কারাতে কৌশলে তাদের নিরস্ত্র করে।
সে কাউকে গুরুতর আঘাত করে না-শুধু বোঝায়, সে চাইলে পারত।
তারপর সে বলে,
“তোমরা খারাপ নও। তোমাদের রাগ খারাপ।
আমি তোমাদের শত্রু না… আমি তোমাদের ভাই।”
তার কথায় দ্বিধা তৈরি হয়।
সে বাবার গল্প বলে-একজন সেনা অফিসার, যিনি পাহাড়ের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছিলেন।সোহান আরও বলে তোমরা কি চাও-তোমাদের পরিবার তাদের অভিভাবক হারিয়ে ফেলুক,তোমাদের সন্তান তার পিতাকে হারিয়ে ফেলুক,নিঃশ্চয় চাইবে না।তোমাদের এখনও বয়স অনেক কম,ভালো পথে ফিরে আসো,মানুষের মত করে বেচে থাকো।
ধীরে ধীরে অস্ত্রগুলো নিচে নেমে আসে।
এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

ভালোবাসার বিজয়
সোহান তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে, স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামের প্রবীণদের সাথে আলোচনা করে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করে।
কয়েক মাস পর পাহাড়ে আবার হাসির শব্দ শোনা যায়।
রিয়াদ একদিন সোহানকে বলে,
“তুমি আমাদের হারাওনি… তুমি আমাদের বদলে দিয়েছ।”
সোহান আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে-
“বাবা, আজ পাহাড়ে শান্তি ফিরেছে।”

এই গল্প দেখায়-
শক্তি দিয়ে ভয় জেতা যায়,
কিন্তু প্রেম আর বুদ্ধি দিয়ে হৃদয় জেতা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর