মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
সলঙ্গার হলি চাইল্ড স্কুলের ঈর্ষণীয় সাফল্য গোপালপুরে এসএসসি ও সমমানে ৩০ শতাংশের নিচে পাস সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩০০ কোটির অর্থনীতির ভারুয়াখালীকে সিটি কর্পোরেশনে দেখতে চায় এলাকাবাসী: এমপির সুপারিশে মন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি গোপালপুরে হেমনগরে মাদক, জঙ্গিবাদ ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিং সভা সৌদি আরবে আগুনে মৃত্যু; পরিচয় মিলেছে নওগাঁর ১৩ জনের গুণগত শিক্ষায় এগিয়ে রুহিয়ার ব্রাইট স্টার, এসএসসিতে চমক সদ্য ঘোষিত এসএসসির ফলাফলে সলঙ্গা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐর্শনীয় সাফল্য  আটোয়ারীর খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট, প্রশংসিত হয়েছেন ইউএনও

নেই স্বাস্থ্যকর টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানি, একদল পরিশ্রমী নারী শ্রমিকের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রামের গল্প

আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর(নাটোর):
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫, ৫:০২ অপরাহ্ন

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলাধীন বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের পাশে সন্ধ্যার পর তৈরি হয় এক অস্থায়ী বসতি। দিনভর মাঠে রসুন তোলার পর ক্লান্ত নারী শ্রমিকরা এখানে জড়ো হন। রান্নার আয়োজন করে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া সারেন এবং খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটান তারা। উপজেলার কাছিকাটা ও হাঁসমারী এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে প্রতিদিন।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই মহাসড়কের পাশে শুরু হয় এক ভিন্ন কর্মযজ্ঞ। সারি সারি চুলায় জ্বলে আগুন, ধোঁয়ার কুন্ডুলি উঠতে থাকে আকাশে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, কোনো উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন, এটি একদল পরিশ্রমী নারী শ্রমিকের দৈনন্দিন সংগ্রামের গল্প।

স্থানীয়রা জানান, এই নারী শ্রমিকরা মূলত তাড়াশ, চাটমোহর ও পাবনার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসেন মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে। দিনে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা মাঠে কাজ করার পর তারা ফিরে আসেন মহাসড়কের পাশে তাদের অস্থায়ী আবাসে। অথচ এত কষ্টের পরও তারা পান সামান্য মজুরি।

তাড়াশ থেকে আসা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী শ্রমিক ইলা মিত্র জানান, ‘সারাদিন রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করি। সন্ধ্যায় এসে রান্নার ব্যবস্থা করি। একসঙ্গে খাই। তারপর খোলা আকাশের নিচে ঘুমাই কিংবা মাথার ওপর পলিথিনের ছাউনি দিয়ে থাকি। কিন্তু কাজের তুলনায় মজুরি কম, সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।

আরেক নারী শ্রমিক জানান, ‘আমাদের থাকার কোনো ভালো জায়গা নেই। অনেক সময় রাতের বেলা ভয় লাগে, কারণ এখানে কোনো নিরাপত্তা নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দা জুলফিকার হোসেন জানান, ‘এই নারী শ্রমিকদের অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। সংসার চালাতে তারা বছরের বেশিরভাগ সময়ই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র কাজ করতে যান। কিন্তু মহাসড়কের ধারে বসবাস করায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় প্রতিনিয়ত। নেই স্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থা, নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা।

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসএম শহিদুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘কৃষিকাজে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও তাদের শ্রমের প্রকৃত মূল্যায়ন আজও হয়নি। তারা অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পান না। নেই সরকারি সহযোগিতা কিংবা শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি। এই নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন, ন্যায্য মজুরি এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ বলেন, গুরুদাসপুরে এ ধরনের নারী শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাদের জীবনযাত্রা কষ্টকর, তবুও তারা থেমে নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, গুরুদাসপুরে মৌসুম ভিত্তিক যে সকল শ্রমিকরা কাজ করতে আসেন তাদের নিরাপত্তা ও সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখছে উপজেলা প্রশাসন।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর