শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
সলঙ্গা থানা মহিলা দলের কমিটি গঠন নিয়ে সমালোচনার ঝড় পাবনার নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম চাটমোহরে সর্বস্তরের জনগণের সাথে মতবিনিময় করলেন বাসাইলে সোনালী ব্যাংকের বিদায়ী ব্যবস্থাপকের বিদায় ও নবাগতের বরণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ঘুষ দুর্নীতি দূরে থেকে সাধারণ মানুষের সেবা করার আহ্বান- আটঘরিয়ায় নবাগত জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম গোপালপুরের বেলুয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে খু*নে*র অভিযোগ সাঁথিয়ায় মাদক সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ বছরের কারাদণ্ড রুহিয়ায় কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: রাতের আঁধারে উপড়ে ফেলা হলো মিষ্টি কুমড়া খেত রাণীনগরে সড়কের পাশে মুরগির বর্জ্যের ভাগাড়: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

নাগরপুর মহিলা অনার্স কলেজের “জমিদার বাড়ি” ইতিকথা

মোঃ আমজাদ হোসেন রতন, নাগরপুর(টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ
আপডেট সময়: সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১, ৪:০৯ অপরাহ্ন

টাঙ্গাইলের  ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী নাগরপুর মহিলা অনার্স কলেজের ইতিকথা। ইতিহাস থেকে যতদুর জানা যায়, সুবিদ্ধা-খাঁ-র সূত্র ধরেই চৌধুরী বংশ নাগরপুরে জমিদারী শুরু করেন। চৌধুরী বংশের প্রথম পুরুষ সন্তান যদুনাথ চৌধুরী। প্রায় ৫৪ একর জমির উপর জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের বংশক্রমে দেখা যায়, তিন ছেলে – উপেন্দ্র মোহন চৌধুরী, জগদীন্দ্র মোহন চৌধুরী, শশাঙ্ক মোহন চৌধুরী।
বৃটিশ সরকার উপেন্দ্র মোহন চৌধুরীর বড় ছেলে সতীশ চন্দ্র রায় চৌধুরীকে সাধারণ জনগোষ্ঠীর জন্যে বিভিন্ন মুখী সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ রায় বাহাদুর খেতাবে ভূষিত করে। ছোট ছেলে সুরেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী অপেক্ষাকৃত পাশ্চাত্য সংস্কৃতিঘেষা। তিনি ছিলেন অনেকের চেয়ে সৌখিন প্রকৃতির মানুষ। তিনি ছিলেন খুব ক্রীড়ামোদী। উপ-মহাদেশের বিখ্যাত ফুটবল দল ইষ্ট বেঙ্গল ক্লাবের তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী। পাশ্চত্য এবং মোঘল সংস্কৃতির মিশ্রনে এক অপূর্ব নান্দনিক সৌন্দর্যে নির্মিত এই বৈঠকখানা দালান এর উপরে ছিল নহবতখানা।
সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রতিদিন ভোর সকালে সানাই-এর ভৈরবী ধ্বনীতে চৌধুরী বংশের তথা এলাকার প্রজাবৃন্দের ঘুম ভাঙ্গত। শোনা যায় রায় বাহাদুরের ছোট ভাই সুরেশ চৌধুরীকে নাগরপুরে রেখে সম্পূর্ণ রাজধানী কলকাতার আদলে নাগরপুরকে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। চৌধুরী বাড়ীর রঙ্গমহলের পাশে এক সুদৃশ্য চিড়িয়াখানা ছিল। সেখানে শোভা পেত- ময়ূর, কাকাতোয়া, হরিণ, ময়না আর শেষ দিকে সৌখিন সুরেশ চৌধুরীর ইচ্ছায় চিড়িয়াখানায় স্থান করে নিল বাঘ এবং সিংহ। ১৯৪৭ এর দেশ বিভক্তির পর একসময় তদানিন্তন সরকার চৌধুরী বাড়ীর সকল সম্পদ অধিগ্রহণ করে। অট্টালিকাটির অভ্যন্তরের পুরো কাজটি সুদৃশ্য শ্বেত পাথরে গড়া। বর্তমানে দৃশ্যমান চৌধুরী বাড়ীর এই  মুল ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নাগরপুর মহিলা অনার্স কলেজ। কলেজের কেচি গেটের মধ্যেই রয়েছে চারটি তালা উক্ত জমিদারী আমলের, ইহা দৃশ্যমান। অত্র কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আনিসুর রহমান জানান ২৬-৮-১৯৮৯ ইংরেজি সনে কলেজ প্রতিষ্ঠা লগ্নে এর নাম দেয়া হয়েছিল রওশন এরশাদ মহিলা বিদ্যালয়। এখানে জমিদারদের জমির পরিমাণ ছিল ২২ একর। কলেজের নামে বরাদ্ধ দেয়া হয় ৫:৮১ একর, এখনও উক্ত বরাদ্ধকৃত ভূমির কিছু অংশ কলেজ কর্তৃপক্ষর বে দখল রয়েছে। ঝুলন্ত দালানসহ কয়েকটি দালান(ভবন) ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইতোমধ্যে সিলগালা করা হয়েছে। অধ্যক্ষের মতামত এখানে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করা হলে নাগরপুর বাসী আরও লাভবান হবেন। 

#CBALO/আপন ইসলাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর