শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
সলঙ্গা থানা মহিলা দলের কমিটি গঠন নিয়ে সমালোচনার ঝড় পাবনার নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ আমিনুল ইসলাম চাটমোহরে সর্বস্তরের জনগণের সাথে মতবিনিময় করলেন বাসাইলে সোনালী ব্যাংকের বিদায়ী ব্যবস্থাপকের বিদায় ও নবাগতের বরণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ঘুষ দুর্নীতি দূরে থেকে সাধারণ মানুষের সেবা করার আহ্বান- আটঘরিয়ায় নবাগত জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম গোপালপুরের বেলুয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে খু*নে*র অভিযোগ সাঁথিয়ায় মাদক সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১ বছরের কারাদণ্ড রুহিয়ায় কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: রাতের আঁধারে উপড়ে ফেলা হলো মিষ্টি কুমড়া খেত রাণীনগরে সড়কের পাশে মুরগির বর্জ্যের ভাগাড়: স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

গুরুদাসপুরে ভূমিহীন পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল পুকুরপাড়!

প্রতিনিধির নাম:
আপডেট সময়: বুধবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২১, ৪:০৯ অপরাহ্ন

আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
অন্যের পুকুরপাড়ে ভাঙ্গা টিনের বেড়ার ছাউনিতে বসবাস করেন অসহায় রাফিওন বেগম।স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পুকুর পাহারা দিয়ে চলছে তার সংসার জীবন। আশেপাশে নেই কোন বাড়িঘর। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে প্রতিদিন ও রাত কাটাতে হয় তাদের। নেই কোনো ভূমি, ঘর বা মাথা গোঁজার ঠাঁই। তাই উচ্ছেদের ভয় মাথায় নিয়েই গত দশ বছর ধরে পুকুরপাড়ে থাকছেন তারা। এমন হতাশাগ্রস্থ দুস্থ পরিবারের দেখা মিলেছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামের টলটলি পাড়ায় কুমারখালি গ্রামের আলতুব হোসেনের লিজ নেওয়া পুকুরের এক কোণায় তৈরি ঘরে বসে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পুকুর পাহারা দিচ্ছেন রাফিওন বেগম।স্বামী আক্তার হোসেন পুকুর পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি দিনমজুরের কাজ করেন। সেই ঘরটাও পুকুর মালিকের দেওয়া। রাফিওন বেগমের দুই ছেলে। বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে এবং ছোট ছেলে এবছর স্কুলে ভর্তি হয়েছে। কারো সহায়তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাদের পুকুর পাহাড়া দিতে হচ্ছে।

পুকুর মালিক আলতুব হোসেন বলেন, আক্তারের বাবা মৃত আরমান সরদারের জীবন কেটেছে পুকুর পাহারা দিয়ে। জমি ও ঘরবাড়ি না থাকায় পুকুরপাড়েই থাকতে হচ্ছে আক্তারের পরিবারকে। দুই সন্তানসহ দিন এনে দিন খেয়ে চলছে তাদের সংসার। বর্তমানে তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুকুরপাড়।

রাফিওনের ভূমিহীন স্বামী আক্তার হোসেন বলেন, আমার বাবার কোনো জায়গাজমি ছিলো না। পুকুর পাহাড়ার ওপর নির্ভর করে ছোট্ট ঘর করে দিয়েছেন পুকুর মালিক। তাই পরিবার নিয়ে মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, তুফানের সঙ্গে যুদ্ধ করেই পশু পাখির মতো বসবাস করতে হচ্ছে। দুর্যোগ আতঙ্কে এক মুহূর্তেও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনা।

কষ্টের কথা বলতে গিয়ে রাফিওন বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি এক অসহায় পরিবারের মেয়ে। বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে অন্যের পুকুরপাড়ে মিলেছে ঠিকানা। আমাদের দেখার কেউ নেই। সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি। শুনেছি যাদের জমি আছে ঘর নাই, ঘর আছে জমি নাই, তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী গৃহের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। আমার বাড়ি জমি কিছুই নেই। উপজেলা প্রশাসন আমাদের খোঁজখবর নিয়ে গৃহের ব্যবস্থা করে দিলে সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারতাম।

 

CBALO/আপন ইসলাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর