শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
নাগরপুরে অসচ্ছলদের ঈদ উপহার দিলেন ভাদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী আদনান রুসেল কাঞ্চনপুর ছনকা পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ সুপার দেশবাসীকে মাহে রমজান শেষে পবিত্র ঈদ-উল‎ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন জাকারিয়া পিন্টু নাগরপুরে এসএসসি ব্যাচ’২০০৭ এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত মানুষের আস্তা আর ভালবাসায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকতে চান সফল চেয়ারম্যান- মিজানুর রহমান  নাগরপুরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুস সালাম ঈশ্বরদীবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু

স্বাস্থ্য শিক্ষা গবেষণায় উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি হচ্ছে

প্রতিনিধির নাম:
আপডেট সময়: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনা ভাইরাস থেকে জীবন রক্ষায় স্বাস্থ্য শিক্ষা গবেষণা সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য শীঘ্রই উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করা হবে। করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং পরীক্ষা করার কিট আবিষ্কার ও গবেষকদের দক্ষতা অর্জনে তদারকি করবে এই কমিটি। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। তবে করোনাভাইরাসসহ অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণার জন্য এই অর্থ অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করতে হলে গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন। জানা গেছে, সমন্বিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞান গবেষণা পরিচালনার জন্য এই কমিটিতে স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞ গবেষক, পুষ্টি বিজ্ঞানী, জনস্বাস্থ্য ও সমাজ বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, পরিবেশবিদ ও সুশীল সমাজ ও অন্যান্য উপযুক্ত প্রতিনিধিদের রাখা হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার মতো ভবিষ্যতে অন্য মহামারী দেখা দিলে তা মোকাবেলায় টেকসই পদ্ধতি আবিষ্কার এবং রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে যথাযথ গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এ কারণে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও গবেষণার কাজে আমাদের জোরালোভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। তিনি বলেন, গবেষণা উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকার একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সংক্রান্ত কার্যক্রম ১৩ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাস্তবায়ন করছে। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মোট বাজেট বরাদ্দের ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল চার দশমিক ৯ শতাংশ। বাজেটে করোনা মোকাবেলায় জরুরী চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে এবার সর্বাপেক্ষা অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে ও নোভেল করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় বর্তমানে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, এছাড়া আগামী অর্থবছরে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় যে কোন জরুরী চাহিদা মেটানোর জন্য দশ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ সম্মানী বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।
আর কোভিড-১৯ রোগে সংক্রমিত বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ২২ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে পরিচালন খাতে ১২ হাজার ৮৩০ কোটি ও উন্নয়ন হাতে ১০ হাজার ৫৪ কোটি টাকা, আর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগে ৬ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে পরিচালন খাতে ৩ হাজার ৯১৭ কোটি ও উন্নয়ন খাতে ২ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। আগের দুই অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ১৮ হাজার ৬৭৭ কোটি ও ২৩ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯-এর জন্য থোক বরাদ্দ, স্বাস্থ্য গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালী করতে বিশেষ বরাদ্দ, জেলা পর্যায়ে ক্যান্সার হাসপাতাল ও ডায়ালিসিস সেন্টার, নতুন মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাড়াতে হবে। তাদের মতে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য কম মনোযোগ দেয়া হয়েছে এবং এ কারণে বড় ধরনের সংস্কার এখন দরকার। তাই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে অনেকেরই ধারণা ছিল এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাত অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে। কিন্তু বাজেটে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবনায় তেমনটা দেখা যায়নি। এই অর্থ বছরের প্রস্তাবিত মোট বাজেটের ৭.২ শতাংশ অর্থাৎ ২৯ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ স্বাস্থ্য খাতে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত অর্থবছরের তুলনায় তিন হাজার কোটি টাকার মতো বেশি। বাংলাদেশে যে রোগগুলো বেশি হয় সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া গবেষণার জন্য সময়মতো অর্থ ছাড় একটি বড় বিষয়। এখন করোনা কাল চলছে। এ সময় দ্রুত অর্থ ছাড় করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা এ প্রসঙ্গে বলেন, সময় মতো বরাদ্দ পাওয়া যায় না। বাজেট দেয়া হয় জুন মাসে। সেটা ছাড় করতে দুই-তিন মাস চলে যায়। যখন টাকাটা পাওয়া যায়, তখন সময়মতো টাকা খরচ করার সময় থাকে না। খুব তাড়াহুড়া হয়ে যায়। যার কারণে কাজ যে মানের হওয়া দরকার, তেমন কাজ আমরা করতে পারি না। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন কোথায়, কোন ক্ষেত্রে কতটুকু দরকার সেটা যাচাই করে বরাদ্দ হয় না। এটা একটা সমস্যা। বাজেট যখন করা হয়, পূর্ববর্তী বছরের যে টাকাটা থাকে, সেখান থেকে কিছু পার্সেন্ট বাড়িয়ে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, সরাসরি স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নিয়োগ না করে আমলাদের দ্বারা স্বাস্থ্য খাত পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারে নজর থাকছে না। যাদের স্বাস্থ্য খাতে মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাদের নীতি নির্ধারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া উচিত। অনেকের স্বাস্থ্য খাতে মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। দেখা গেল হঠাৎ করে এক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি হলো। আগে বিষয়টা জানতে হবে, তারপর বাস্তবায়ন। কিন্তু দেখা গেল জেনে ওঠার আগেই তিনি বদলি হয়ে গেছেন।
এদিকে, এবার শুধু করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সমন্বিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞান গবেষণায় ১০০ কোটি টাকা। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী যারা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় কাজ করছেন তাদের জন্য ৮৫০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় দুটি জরুরী প্রকল্প নেয়া হয়েছে। একটি বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকার। অন্যটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দেয়া ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকার। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় যেসব সুরক্ষা সামগ্রী রয়েছে যেমন মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই, সেগুলোর দাম কমবে। হাসপাতালে আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির দামও কমবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর