টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দিঘলআটা গ্রামে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. আরশেদ আলীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনায় অনশনে বসেছেন ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একই গ্রামের মৃত সমসের আলীর ছেলে মো. আরশেদ আলী ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে ওই বৃদ্ধাকে ঘর থেকে বাইরে নেন। পরে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে পেছনের একটি নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ সময় বৃদ্ধার চিৎকার শুনে তাঁর এক নাতি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অভিযুক্ত আরশেদ আলীকে আটক করেন বলে জানান স্থানীয়রা।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিবারের ১৫ থেকে ২০ জন লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর ছেলে ও নাতিদের মারধর করে এবং অভিযুক্তকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।
পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজপতিরা ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে দফায় দফায় চেষ্টা করেও অভিযুক্তের পরিবারের অসহযোগিতার কারণে কোনো সমাধান হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সামর্থ্যও তাদের নেই। বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে অভিযুক্তের বাড়ির আঙিনায় অনশনে বসেছেন ওই বৃদ্ধা।
বৃদ্ধা জানান, বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তিনি এই বাড়ি থেকে যাবেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আরশেদ আলীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ছেলে মো. আসলাম ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর বাবা ওই বৃদ্ধার বাড়িতে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। পরে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
আসলাম আরও দাবি করেন, বিষয়টি ঘরোয়াভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে ঘরে থাকা দুই লাখ টাকা নিয়ে গেছে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে অবগত নই, আপনার কাছে প্রথম শুনলাম। খোঁজখবর নিয়ে জানাচ্ছি।