বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

কৃষকদের উঠানে পরিণত হয়েছে সিরাজগঞ্জ রায়দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন

মৌসুম শেষ হলেও খড়ের পালা সরিয়ে নেননি কৃষকরা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। ফুটবল খেলা, ব্যাডমিন্টন খেলা, দাড়িয়া বান্ধা, গোল্লা ছুট সহ বিভিন্ন খেলা থেকে বঞ্চিত এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার  রায়দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নির্দিষ্ট গোষ্ঠী কিছু সংখ্যক কৃষকের ধান মাড়াই, ধান শুকানো ও খড় রাখার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ধান ও সরিষার মৌসুম শেষ হলেও মাঠজুড়ে পড়ে রয়েছে খড়ের পালা। ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা, প্রার্থনা সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ধান ও সরিষা মৌসুমে কয়েকজন কৃষক বিদ্যালয়ের মাঠকে নিজেদের বাড়ির উঠানের মতো ব্যবহার করেন। মাঠে ধান শুকানো, মাড়াই এবং খড়ের পালা তৈরি করা হলেও মৌসুম শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলো সরানো হয় না। এমনকি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়েও মাঠে ধান ও খড় শুকাতে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে মাঠ ব্যবহার করতে পারে না।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ছারোয়ার  হোসেন এর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এলাকার এক সচেতন ব্যক্তি, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠ এভাবে দখল করে রাখায় শিক্ষার্থীরা একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাঠজুড়ে খড়ের পালা থাকায় তারা খেলাধুলা করতে পারে না, এমনকি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও ব্যাহত হচ্ছে। এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠ কোনো ব্যক্তির উঠান নয়। কিন্তু বছরের পর বছর কিছু কৃষক নিজেদের সুবিধামতো মাঠ ব্যবহার করছেন। মৌসুম শেষ হওয়ার পরও খড়ের পালা পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা, শরীরচর্চা কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান হোসেন বলেন, “ধান ও সরিষা মৌসুমে কৃষকরা আমাদের স্কুল মাঠকে নিজেদের জমির মতো ব্যবহার করেন। মাঠে ধান ও খড় থাকায় আমরা ঠিকভাবে অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়াতে পারি না। খেলাধুলারও কোনো জায়গা থাকে না। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের মাঠ শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হওয়া উচিত। তাই মাঠ থেকে দ্রুত খড়ের পালা অপসারণ, বিদ্যালয়ের সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর