শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন

বাঁশ শ্রমিক আব্বাস উদ্দীনের জীবন সংগ্রামের গল্প

মোঃ নাজমুল হুদা, লামা(বান্দরবান):
আপডেট সময়: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ন

 পাহাড়ে বাঁশ শ্রমিক মোঃ আব্বাস উদ্দীন (৬৩) জীবন সংগ্রামের গল্প হচ্ছে ৩০
বছরের, দীর্ঘদিন কায়িক পরিশ্রমের করে ৭ সদস্যদের পরিবারের ঘানি টানছে। প্রতিদিন পাহাড়ি বন জঙ্গলের হিংস্র প্রাণী কবল হতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে প্রাকৃতিক বাঁশ সংগ্রহ করেন। মোঃ আব্বাস উদ্দীনের বাড়ি পেকুয়া উপজেলা সাবেক গোলতি গ্রামে, তার পিতা মৃত মোজাহের আহমেদ। প্রতিদিন সকাল ৮ টায় বাড়ি হতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বান্দরবানের লামা উপজেলার দূর্গম ফাইতং ইউনিয়নে ফাদুরঝিরির, মিনঝিরি,লম্বাশিয়াসহ অন্য জায়গায় গভীর বনের ভিতরে একা বাশঁ সংগ্রহ করে আবার বিক্রি করে সংসারের জন্য ডালভাত নিয়ে যাওয়া তার প্রতিদিনের কাজ। এত এত দূর হতে কখনও লোকাল গাড়িতে অথবা পায়ে হেঁটে পাড়ি দেন।
 ফাইতং এর ফাদুরছড়ায় একটি চায়ের দোকানে বাঁশ সংগ্রহ পর চা নাস্তা খেতে এলে প্রতিবেদকের সঙ্গে  সাক্ষাৎ হয় ৪ জুন দুপুরে গরমের সময় পরিশ্রম করার পর ক্লান্ত শরীর, ভঙ্গুর দেহ,অন্যদিকে বয়সের চাপ। পায়ে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে মাছি ঘিরে ধরছে। প্রশ্ন করলাম? আপনার পায়ে রক্ত কেন উত্তরে বলল, পাহাড়ে বাঁশের আঘাত পেয়েছি। গল্পের চলে সে আরও বলেন আমার ৭ সদস্যের পরিবার ৪ মেয়ে ১ ছেলে ছেলেটা সবার ছোট। এর মধ্য ৩ মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। বিবাহিত মেয়েগুলোকে এসএসসি পাশ করিয়ে কলেজে পর্যন্ত পাঠিয়েছিলাম অর্থে অভাবে আর পড়ালেখা করাতে পারিনি। এখন ছোট মেয়েটি পেকুয়া জিএমসি সকুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।
আমি প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে উঁচু পাহাড়ের তলী বা নিচে থেকে ২০ থেকে ৩০ টি বাঁশ সংগ্রহ করে বান্ডিল করে গাড়ি রাস্তায় এনে আবার পেকুয়ায় গিয়ে বিক্রি করি।  এক বান্ডিল কাঁচা বাঁশের বিক্রয় মূল্য প্রায় ৮০০ টাকা। সেখান থেকে দুইশত টাকা খরচ যায়। বাকি ছয়শত টাকা দিয়ে বাজার হতে কেনাকাটা করে বাড়িতে নিয়ে যাই। বাঁশ প্রতিদিন বিক্রি হয় না। আমি প্রতিদিন বাঁশ সংগ্রহ করতে আসতে পারি না। অসুস্থ হলেও আসতে পারি না। বর্ষাকালে এ কাজ অনেক কঠিন।  সেক্ষেত্রে পরিবারে খাবারও জুটে না। যেন জীবন সংগ্রামের পেটের তাগিতে এক উপজেলা হতে অন্য উপজেলায় যাওয়া আসা।
আগে ৩০টি বাঁশের দাম ২০০/ ৩০০ টাকা বিক্রি হতো, এখন বেশি বিক্রি হয়। সে কথোপকথনে আরও বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এ কাজ করতে গিয়ে বনে একা থাকায় বনের মধ্যে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি প্রাকৃতিক বনে জীবজন্তু তথা বাঘ,ভাল্লুক, হাতি, গোখরা,অজগর সাপসহ অন্যন্য প্রাণীর। ভয় তেমন লাগেনি  তবে আমার কাজ আমি করেছি তাদের পথে তারা গেছে।  আমি ছোটকাল থেকে এ পেশায় জড়িত। এর আগে ছোটকালে প্রায় ত্রিশ বছর মাতামুহুরী নদীর আড়াকসির কাজ করেছি। আমি নিজে অশিক্ষিত লোক  তবে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করানো চেষ্টা করেছি। ৩ নং মেয়েটির সংসারে ঝামেলা চলছে সে বর্তমানে আমার বাড়ি আছেন।
এ বিষয়ে ফাইতং এর স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম, জাফর আলম, মুজিব জানান, আমরা ফাইতং প্রতিদিন দেখি এই লোকটিকে বাঁশ সংগ্রহ পর বিকালে নিয়ে যান গাড়িতে করে অথবা পায়ে হেঁটে বানিয়াছড়া নিয়ে যায়। সেখান গন্তব্যে যায়, আমাদের সমাজের এরকম বিভিন্ন পেশায় আব্বাস উদ্দীনের মত অনেক লোক রয়েছে।  তাদেরকে বৃদ্ধ বয়সে হলেও সমাজ, রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর