বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন

কাজের জন্য রাশিয়া যাওয়া গোপালপুরের ৩ যুবককে জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ 

মোঃ নুর আলম, গোপালপুর(টাঙ্গাইল):
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ন

উন্নত জীবনের স্বপ্ন এবং সংসারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় গত ৭ মে রাশিয়ায় পাড়ি জমান টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিন যুবক মো. আমিনুল ইসলাম! (৩০), পবিত্র চন্দ্র (৩৫) ও নজরুল ইসলাম (৪০)। কিন্তু কনস্ট্রাকশন ভিসায় বিদেশে গেলেও সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের জোরপূর্বক রাশিয়ার সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর একবার মাত্র তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন ওই তিন যুবক। এরপর তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঈদের রাতে কৌশলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমিনুল ইসলাম জানান, তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা না হলে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে শুক্রবার রাতে নজরুল ইসলামের সঙ্গে শেষবারের মতো যোগাযোগ হয় তার স্ত্রীর আছমা বেগমের। সে সময় নজরুল ইসলাম জানান, তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা ৩০ বাংলাদেশিদেকে ৫জনের গ্রুপ করে ৬টি এলাকায় ইতোমধ্যে জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (রিক্রুটিং লাইসেন্স নং-২৫০৫) এর মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন ভিসায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের মৃত কছর উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম। তার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান।
একই দিনে মজিদপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সূত্রধরের একমাত্র ছেলে পবিত্র চন্দ্র তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে বিদেশে যান। এছাড়া বীর নলহরা গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে নজরুল ইসলাম তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও চার সন্তানকে রেখে রাশিয়ায় পাড়ি জমান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিদেশে যাওয়ার জন্য তারা শেষ সম্বল বিক্রি করেছেন, ঋণ নিয়েছেন এবং সুদে টাকা ধার করে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা এজেন্সিকে পরিশোধ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জুলিয়া নামের এক রাশিয়ান নারীর মাধ্যমে ওই দিন ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হলরুমে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওতে ওই নারীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
সরেজমিনে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের আনন্দের পরিবর্তে সেখানে বিরাজ করছে উদ্বেগ আর কান্না। পরিবারের সদস্যদের একটাই প্রশ্ন, একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের কোনো ক্ষতি হলে তাদের সংসার চলবে কীভাবে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে তাদের উদ্ধার করুক এবং প্রতিশ্রুত কর্মস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করুক।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এজেন্সির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তাদের আর্মিতে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের আর্মি থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েলফেয়ার সেন্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাকিব মাহমুদ বলেন, রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধারের বিষয়ে কাজ চলছে।
এদিকে সোমবার রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, উচ্চ বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে রাশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগে ১ জুন তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এজেন্সিগুলো হলো আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮), জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর পড়ুন
এক ক্লিকে বিভাগের খবর