ফতুল্লায় ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং সংসার না করার হুমকির অভিযোগে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বিজ্ঞ ফতুল্লা আমলী আদালত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মুক্তা আক্তার (২৫)। মামলা সূত্র নম্বর—সি.আর. মামলা নং-২০৮৭/২০২৬।
মামলার আসামিরা হলেন— ভুক্তভোগীর স্বামী মোঃ মেহেদী হাসান (২৬), শ্বশুর মোঃ হুমায়ুন কবির (৪৮) এবং শাশুড়ি হাছিনা বেগম (৪৫)। তারা সবাই ফতুল্লা থানার পাগলা রসূলপুর এলাকার বাসিন্দা। মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক ১,২০,০০০ টাকা দেনমোহরে মুক্তা আক্তারের সাথে মোঃ মেহেদী হাসানের বিবাহ হয়। বিবাহের সময় কনের পরিবার নগদ ১,০০,০০০ টাকা, ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার (আনুমানিক মূল্য ১,৮০,০০০ টাকা) এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ও উপহারসামগ্রী প্রদান করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয় ভুক্তভোগী স্ত্রী মুক্তা আক্তার আওয়ার নারায়ণগঞ্জ কে আরো জানান মেহেদির বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক নারীর সাথে পরকীয়ার অভিযোগ, এমনকি বিভিন্ন নারীকে বিয়ের প্লবন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগ রয়েছেন মেহেদির বিরুদ্ধে। মেহেদির বাবা এবং মায়ের প্রশ্রয় বিভিন্ন মেয়ের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন, এবং মুক্তা আক্তার কে ডিভোর্স দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময় অন্য জায়গায় ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন মুক্তা কে মেহেদির বাবা-মা।
বিবাহের কিছুদিন পর থেকেই আসামিরা যৌতুকলোভী আচরণ শুরু করে এবং স্বামী অসামাজিক কাজে টাকা খরচ করে বেকার জীবন যাপন করতে থাকে। পরবর্তীতে বিদেশে যাওয়ার কথা বলে গৃহবধূর বাবার বাড়ি থেকে আরও ৩,০০,০০০ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করা হয়। একপর্যায়ে নির্যাতন চালিয়ে গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি আপোষ-মিমাংসার জন্য গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে গৃহবধূর মায়ের বাসায় আলোচনায় বসলে আসামিরা পুনরায় সাক্ষীগণের সম্মুখে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুক না দিলে সংসার না করার এবং অন্যত্রে বিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসামিরা চলে যায়।
ঘটনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে উল্লেখ করে আদালতের নিকট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।