স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওপাড়া মৌজায় ১ একর ৫০ শতক জমি নিয়ে মাধবপুর (জোতপাড়া) গ্রামের মোঃ সম্বু ইসলাম ওরফে রফিকুল (৫৫) এবং মোঃ সাদেকুল ইসলামের (৩৬) পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
ভুক্তভোগী সম্বু ইসলামের দাবি, ২০২০ সালে খরিদসূত্রে জমিটির মালিকানা পেয়ে তিনি আশরাফুল ইসলাম (৩৭) নামে অপর এক কৃষককে সঙ্গে নিয়ে সেখানে লাউ চাষ শুরু করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
তার অভিযোগ, এর জের ধরে গত ২০ আগস্ট ভোররাতে দুর্বৃত্তরা প্রথম দফায় শতাধিক লাউ গাছ কেটে ফেলে। এতে তার প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে বিবাদীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে বিবাদীরা পুনরায় ক্ষেতে প্রবেশ করে বাকি গাছসহ মোট প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ফলন্ত লাউ গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলে। এতে দুই দফায় প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি রশিদুল ইসলাম, সাদেকুল হক, ইসমাইল হোসেন ও আনছারুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রুহিয়া থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ মোঃ সাদেকুল ইসলাম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার দাবি, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি হলেও বিবাদীরা জোরপূর্বক চাষাবাদ করছে এবং পূর্বের সালিশ-বৈঠকের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছে। তার অভিযোগ, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিবাদীরা নিজেদের ক্ষেতের ২৭টি পুরাতন গাছ নিজেরাই উপড়ে ফেলে তাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত করছে। এর পরদিন ১১ সেপ্টেম্বর সকালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রফিকুল ও তার লোকজন তাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সম্বু ইসলাম বলেন, কষ্টের ফলন্ত গাছগুলো কেটে ফেলায় আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। আমি এ অন্যায়ের বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।
ঢোলারহাট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সবুজ আলী জানান, বিষয়টি জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিলাদুন নবী জানান, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।